সকাল সাড়ে ৮টা। বিজয় সরণির মোড়ে গাড়ির দীর্ঘ সারি। চারপাশে হাইড্রোলিক হর্নের শব্দ, বাসের ধোঁয়া আর গরমে ভারী হয়ে আছে বাতাস। সিএনজি, বাস কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে আটকে থাকা ঢাকার মানুষের কাছে এমন যানজট কেবল সময়ের অপচয় নয়, মানসিক চাপেরও বড় কারণ।
যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার ফলে তৈরি হতে পারে ‘ট্রাফিক স্ট্রেস’। শারীরিক অস্বস্তি, অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্ব একসঙ্গে কাজ করে শরীরকে চাপের অবস্থায় নিয়ে যায়। ফলে পেশি শক্ত হয়ে আসা, বিরক্তি, অস্থিরতা কিংবা কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগেই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণ করা ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। তবে যানজটের মধ্যে নিজের মানসিক প্রতিক্রিয়াকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে ‘মাইন্ডফুলনেস’ বা সচেতন উপস্থিতির চর্চা। অর্থাৎ জ্যাম কখন ছাড়বে, কতক্ষণ দেরি হবে কিংবা পরের মিটিংয়ে কী হবে, এসব নিয়ে না ভেবে নিজের বর্তমান অনুভূতির দিকে মনোযোগ ফিরিয়ে আনা ।
এই কাজে সাহায্য করতে পারে সহজ কিছু শ্বাসের ব্যায়াম।
৪-৭-৮ শ্বাসপ্রশ্বাস
আরাম করে বসে চার সেকেন্ড ধরে নাক দিয়ে শ্বাস নিন। সাত সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন। এরপর আট সেকেন্ড ধরে মুখ দিয়ে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করতে পারেন। তবে শ্বাস ধরে রাখতে অস্বস্তি হলে জোর করা উচিত নয়।
বক্স ব্রিদিং
চার সেকেন্ড শ্বাস নিন, চার সেকেন্ড ধরে রাখুন, চার সেকেন্ডে শ্বাস ছাড়ুন এবং আবার চার সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। তবে অবশ্যই গাড়ি চালানোর সময় নয়, নিরাপদে থেমে থাকা অবস্থায় এটি করা যেতে পারে।
চারপাশের শব্দেই মনোযোগ
যানজটের শব্দ যখন অসহ্য মনে হয়, তখন নিজের চারপাশের তিনটি নির্দিষ্ট শব্দ শনাক্ত করার চেষ্টা করা যায়। গাড়ির এসির শব্দ, ব্যাগের শব্দ কিংবা নিজের শ্বাসের শব্দ যেকোনো কিছু হতে পারে। এতে মনোযোগ বাইরের বিশৃঙ্খলা থেকে সরে বর্তমান মুহূর্তে ফিরে আসে।
অনেকেই যানজটে আটকে থাকা সময়টুকু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করে কাটান। কিন্তু একদিকে যানজটের চাপ, অন্যদিকে একের পর এক নেতিবাচক খবর মানসিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিনের যাতায়াতের কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থেকে সচেতনভাবে শ্বাস নেওয়া, গান শোনা বা নীরবে বসে থাকার অভ্যাসও উপকারী হতে পারে।
যানজট ঢাকার বাস্তবতা। লাল বাতি কখন সবুজ হবে, সামনের গাড়ি কখন নড়বে—তা আমাদের হাতে নেই। কিন্তু সেই অপেক্ষার সময়টুকু কীভাবে কাটাব, সেটি কিছুটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে।
রাস্তা থেমে থাকলেও মনকে অস্থির হয়ে থাকতে হবে এমন নয়। পরেরবার যানজটে আটকে গেলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বিরক্ত হওয়ার বদলে কাঁধটা একটু শিথিল করুন, ফোনটি নামিয়ে রাখুন এবং ধীরে ধীরে একটি গভীর শ্বাস নিন। যানজটের পথ বন্ধ থাকতে পারে, মানসিক প্রশান্তির পথ নয়।


