ইরান যুদ্ধের মধ্যে চীনে কমেছে কার্বন নিঃসরণ

ইরান যুদ্ধের মধ্যে চীনে কমেছে কার্বন নিঃসরণ
ছবি: এপি/ ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর চীনে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ১ শতাংশ কমেছে। তেলের ব্যবহার কমা, বৈদ্যুতিক যান ও গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়ায় এই পরিবর্তন এসেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক চীন হরমুজ প্রণালি সংকটের কারণে তেলের দামের ধাক্কা সামলেছে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সহায়তায়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশটি অর্থনীতিকে ডিকার্বনাইজ করার ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলেও আশা তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকের জ্বালানি তথ্য বিশ্লেষণ করে সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, তেল আমদানি ৩২ শতাংশ কমলেও দেশটিতে সামগ্রিক পরিবহন ব্যবহার বেড়েছে।

চীনের তেল আমদানি প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কমেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলভোক্তার এই কম আমদানিতে বৈশ্বিক তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বিমান হামলার পর কয়েক সপ্তাহ ও মাসে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছিল।

চীনে তেল আমদানি কমার কারণ নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আমদানি কমার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হয়েছে কৌশলগত তেলের মজুত ব্যবহার করায়। বাকি এক-তৃতীয়াংশের বড় অংশ এসেছে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ায়।

চীনে মোট তেলের ব্যবহার ৯ শতাংশ কমেছে। পরিবহন খাতে কমেছে ১৬ শতাংশ। পেট্রোল ও ডিজেলচালিত অনেক যানবাহন কম চললেও বৈদ্যুতিক গাড়ি, বাস, ট্রেন ও ট্রাকে যাতায়াত বেড়েছে।

আরও পড়ুন

পরিবহন খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ার এই প্রবণতা হরমুজ প্রণালি সংকটের আগেই শুরু হয়েছিল। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক যান, বায়ু টারবাইন ও সৌর প্যানেল উৎপাদক, ব্যবহারকারী ও রপ্তানিকারক। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহে সংকট তেলনির্ভরতা কমানোর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজন আরও বাড়িয়েছে।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে চীনে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার যুক্তরাজ্যের ছয় মাসের মোট তেল ব্যবহারের সমপরিমাণ তেলের চাহিদা কমিয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও এই চাহিদার বড় অংশ আর ফিরে আসবে না। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের প্রধান বিশ্লেষক লরি মাইলিভির্তা বলেন, ‘পরিবহন খাতের ডিকার্বনাইজেশন দ্রুত হয়েছে, এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। এটি চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুতায়নই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।’

মাইলিভির্তা বলেন, তেলের ব্যবহার কমার কারণে এবারই প্রথম চীনের সামগ্রিক কার্বন নিঃসরণ কমেছে। এর আগে কয়লার ব্যবহার কমার কারণে এমনটা ঘটেছিল।

তবে ওই প্রান্তিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। অর্থনৈতিক প্রণোদনার পরিবর্তন ও বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়নে বিলম্বের কারণে এমন হয়েছে। এতে বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের বড় অংশ অপচয় হয়েছে। এরপরও পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদে চীন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসছে।

জ্বালানি গবেষণা সংস্থা এমবারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ড. মুয়ি ইয়াং বলেন, প্রদেশ ও বিভিন্ন খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে চীনের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এমবার।

মুয়ি ইয়াং বলেন, ‘ইরান সংকট এই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে। চীন যেভাবে সংকটের প্রভাব সামলেছে, তাতে আরও গভীর ও বিস্তৃতভাবে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

‘তেল আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি ক্রমেই ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাড়ছে। কোনো দেশই এই ঝুঁকি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা। চীনের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, এই কৌশল কাজ করে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর