‘মাদক নেওয়া শিক্ষার্থীরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না’

‘মাদক নেওয়া শিক্ষার্থীরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না’
‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। বৃহস্পতিবার নামোশংকরবাটী উচ্চবিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

মাদক নেওয়া শিক্ষার্থীরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ।

তিনি বলেছেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে, অর্থাৎ মাদক গ্রহণকারী হিসেবে চিহ্নিত হলে সে কোথাও (ইউনিভার্সিটি ও কলেজে) ভর্তি হতে পারবে না এবং কোথাও চাকরিও পাবে না।’

বৃহস্পতিবার নামোশংকরবাটী উচ্চবিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. হাসান মারুফ বলেন, ‘ডোপ টেস্ট নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিতে যেমন ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে ইউনিভার্সিটি-কলেজ লেভেলে ভর্তিতেও শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে।’

একই সঙ্গে যানবাহনের চালক ও কলকারখানায় যারা যন্ত্রাংশ পরিচালনা করেন, তাদের সবার জন্যও ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখান থেকে (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) শুরু করতে চাই এবং সামনে আরও সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে যেখানেই মাদকের সংবাদ পাওয়া যাবে, সেখানেই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করতে চাই।’ তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ‘মাদক শুধু একটি পরিবার নয়, একটি সমাজ ও একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকাসক্তির প্রথম ধাপ হলো সিগারেট, যা ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বেশি পরিলক্ষিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থীর শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হবে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বিভিন্ন সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হবে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন ও ব্যাপক জনসচেতনতা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে।’

আলোচনা সভা শেষে নামোশংকরবাটী উচ্চবিদ্যালয়ের ১৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে মাদকবিরোধী স্লোগান সংবলিত বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত সকলকে মাদকবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান এবং লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।

‘মাদকের বিরুদ্ধে হই সচেতন, বাঁচাই প্রজন্ম, বাঁচাই জীবন’–এই স্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত আলোচন সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন এ কে এম শাহাব উদ্দীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বিপ্লব কুমার মজুমদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত।

আলোচনা সভা শেষে ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক গম্ভীরা গান পরিবেশিত হয়। গম্ভীরা পরিবেশন করেন প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট-এর নাট্যকর্মীবৃন্দ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad