নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধান ও বিচারিক কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কর্মকর্তা এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ রেজওয়ানা আফরিন এ নোটিশ জারি করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনার অভিযোগে ফয়জুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে রাজাপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি জনসমক্ষে এমন বক্তব্য দেন, যা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
সেই বক্তব্যে তিনি বলেন ‘আমার ভাই হয়তো কোনো দিনই ইবাদত করার সুযোগ পান নাই, ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে ওই দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর দ্বারে কবুল হয়ে যায়, এমনও হতে পারে পেছনের সব মাফ করে দিয়ে আল্লাহ তাকে ভালো করে দিতে পারে।’
বক্তব্যটি ডেইলি ক্যাম্পাস ও আরটিভি অনলাইনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং একটি ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫ (ক), বিধি ১৬ (ঙ) এবং বিধি ১৮-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব বিধিতে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ কারণে কেন তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রতিবেদন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে না–সে বিষয়ে আগামী ১২ জানুয়ারি সোমবার সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওই দিন জেলা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হক জানান, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে আমি বলেছি, বিড়ি টানতে টানতে দাঁড়িপাল্লায় একটি ভোট চাইবেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব দেব।’


