জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই শহীদ’ পরিবারের সদস্যরা। এই সনদের আইনি ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও জানান তারা।
রোববার জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে জুলাই শহীদ পরিবারের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব কথা বলা হয়।
বৈঠকে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানান, যেসব আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তাদের সন্তানরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তা আজও পূরণ হয়নি। বরং বিভিন্ন দপ্তর থেকে তারা নানাভাবে লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। নানা সময়ে নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করলেও অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ বিষয়ে কমিশনকে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই ফাউন্ডেশন এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শহীদ পরিবার যে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না এবং বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন তা তাদের জানা ছিল না।
উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন কমিশন সদস্যরা। এ ছাড়া শহীদ পরিবার প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেয় কমিশন।
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান ও মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
বৈঠকে শহীদ পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, শহীদ মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ ইয়ামিনের বাবা মোহাম্মদ মহিউদ্দীন, শহীদ জাবির ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন, শহীদ শাহরিয়ারের বাবা মোহাম্মদ আবদুল মতিন, শহীদ রিয়ানের বাবা মোহাম্মদ গোলাম রাজ্জাক, শহীদ আব্দুল্লাহর ভাই মোহাম্মদ গাউছ উল্লাহ, শহীদ আব্দুল হান্নানের ছেলে সাইফ আহমেদ খান, মোহাম্মদ ওবায়দুল হক এবং শহীদ মোন্তাসিরের বাবা সৈয়দ গাজীউর রহমান।


