ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ বলেছেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে সরকারের কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ বেহাত হয়েছে। অনেকে বার্ষিক বরাদ্দ নিলেও আর নবায়ন না করে জমি দখলে রেখেছেন। অনেকে আদালতে মিথ্যা মামলা ও ভুয়া তথ্য দিয়ে সম্পদ দখলে নিয়েছেন। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।
রোববার দুপুরে উত্তরায় নিজ কার্যালয়ে গণসমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মোরাদ বলেন, জেলা পরিষদের মালিকানায় ৪০৭ একর জমির মধ্যে কয়েক একর বেদখল আছে। একাধিক কমিউনিটি সেন্টারও দখল হয়ে গেছে। এর মধ্যে কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ, ঢাকার কাটাবনে ভবন, মোহাম্মপুরে চাঁদ কমিউনিটি সেন্টার, গাবতলী গরুর হাট, উত্তরার বিভিন্ন পয়েন্ট, সাভার থানা রোড, কাতলাপুর, কর্ণপাড়া এলাকার দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গাবতলীতে সম্পত্তি দখলে রাখায় অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলকে জরিমানা করা হয়েছে। হানিফ এন্টারপ্রাইজ, রোজিনা এন্টারপ্রাইজের দখলেও সরকার জমি রয়েছে। গাবতলী গরুর হাট সিটি করপোরেশন ইজারা দিয়ে টাকা নিচ্ছে। অথচ সেখানে জেলা পরিষদের ৪৭ একর জমি রয়েছে। পুরান ঢাকার জনসন রোডে অনুমোদন ছাড়াই শত কোটি টাকা ব্যয়ে ২০তলা ‘ঢাকা টাওয়ার’ ভবন করা হয়েছে। নির্মাণকাজ বাকি থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনিয়মে জড়িত থাকায় বেশ কয়েকজন স্টাফকে ওএসডি করা হয়েছে। তারা সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
মোরাদ বলেন, দুই সিটি করপোরেশনের দখলে জেলা পরিষদের জমি ও সম্পদ রয়েছে। বারবার চিঠি দিয়েও সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে জানানো হলেও সিটি করপোরেশন জটিলতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এজন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রয়োজন।


