সারা দেশে তীব্র শীতে কাবু মানুষ। শীতের তীব্রতায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগবালাই। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের অধিকাংশ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে, ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।’
এছাড়া চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। হিম ঠান্ডা বাতাস আর কুয়াশার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। সকাল ৬টায় এই দুই জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে টানা কয়েক দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিতে দেখা গেছে। বিদ্যালয়গামী শিশু এবং বয়স্কদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মানুষরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। কাজের অভাবে তাদের দৈনন্দিন আয়ে দেখা দিয়েছে টান।
মেহেরপুর শহরের রিকশাচালক আব্দুল রায়হান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডার কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যাত্রী কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক রোজগার হচ্ছে। এই অবস্থা আরও কয়েকদিন চললে না খেয়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।’ মেহেরপুর বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান দীপু জানান, ‘তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে দোকান খুলতেই বেলা ১১টা বেজে যাচ্ছে। আবার ক্রেতা না থাকায় রাত ৮টার মধ্যেই দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। ফলে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।’
অন্যদিকে শীতের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগবালাই বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসকেরা উষ্ণ পোশাক ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রতিদিনই শীতজনিত রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিশু, নারী ও বয়স্ক রোগীরা জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক অলোক কুমার বলেন, তীব্র শীতে শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের বিশেষ যত্নে রাখতে হবে। গরম জামাকাপড় পরার পাশাপাশি উষ্ণ ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। এ সময় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বরসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা সবার জন্যই বিপজ্জনক।


