আর্থিকভাবে দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের’ কার্যক্রম ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। আগামী রোববার ব্যাংক হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-কে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার একটি হোটেলে বণিক বার্তার আয়োজনে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে’ যোগ দিয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই দেশের ব্যাংক খাত সংকটে পড়েছে। ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতে সব ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে।’ আর এজন্য রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা চান তিনি।
গত ৯ নভেম্বর গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ডের সভায় এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে শরিয়াহভিত্তিক নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ হিসেবে প্রাথমিক লাইসেন্স দেওয়া হয়।
এইচ মনসুর বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল- খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হতে পারে। তবে এটি আমাদের কল্পনার মাত্রা ছাড়িয়ে ৩৫ শতাংশে পৌঁছে গেছে।’ বিভিন্ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আরও বাড়ার শঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধাপে ধাপে ব্যংকিং খাতের সব সমস্যা সমাধান করা হবে। এ দুরাবস্থার অন্যতম কারণ বন্ড মার্কেট এবং স্টক মার্কেটের অনিয়ম। ব্যাংক খাতের সঙ্কট কাটতে আরও ১০ বছর সময় লাগবে।’
দেশে এই মূহুর্তে ডলার সংকট নেই বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর। তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি কমাতে ডলার এক্সচেঞ্জ রেট বাজার ভিত্তিক করা হয়েছে, এতে আমরা সফল হয়েছি৷ এখন আমরা যত ইচ্ছে আমদানি করতে পারি। ব্যাংকিং খাতে আমদানিতে কোনো সমস্যা নেই।’
রমজানকে কেন্দ্র করে এখনো পর্যন্ত কোন আমদানিতে শঙ্কা নেই জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ‘আমদানি করার পর টাকা নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব। কেউ যদি আমদানি করতে না পারে, সেটি তার ব্যক্তিগত সমস্যা।’
রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যই পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে বলেও জানান আহসান এইচ মনসুর।


