আন্দোলনে ‘সাউন্ড গ্রেনেডে আহত’ প্রাথমিক শিক্ষকের মৃত্যু

আন্দোলনে ‘সাউন্ড গ্রেনেডে আহত’ প্রাথমিক শিক্ষকের মৃত্যু
কলম বিসর্জন কর্মসূচিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

আন্দোলনের সময় ‘সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে অজ্ঞান’ হয়ে পড়া ফাতেমা আক্তার নামের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

আন্দোলনের আট দিন পর রোববার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এদিন রাতে চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলবের ঠাকুর চরে স্বামীর বাড়িতে দাফন করা হয় তাকে।

নিহত ফাতেমা আক্তার চাঁদপুরের উত্তর মতলবের ‘ঝিনাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তার বড় মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।

কলম বিসর্জন কর্মসূচিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দীন মাসুদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘৮ নভেম্বর ওই শিক্ষক শাহবাগে শিক্ষকদের কলম বিসর্জন কর্মসূচিতে আসেন। তার সহকর্মীদের কাছে শুনেছি, পুলিশের উপর্যুপরি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের শব্দে জ্ঞান হারান তিনি। পরে আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় তার স্বামী নিয়ে যান।’

শাহবাগের আন্দোলনস্থলে সাউন্ড গ্রেনেডে ফাতেমা আক্তারের আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি। তিনি জানান, নিহতের স্বামী মো. সোলেমান ঢাকার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

আরও পড়ুন

‘অজ্ঞান হয়ে পড়ায় ৮ নভেম্বরের পর কারও সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না ফাতেমা। রোববার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি’, বলেন লিপি।

কলম বিসর্জন কর্মসূচিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

পরিবারের বরাতে শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সাউন্ড গ্রেনেডের ঘটনার পর থেকে ফাতেমা আক্তার প্রচণ্ড মানসিক ট্রমায় ছিলেন এবং কারও সঙ্গে কথা বলতেন না। এদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

৮ নভেম্বর ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ তিন দফা দাবিতে শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হয়। শাহবাগ থানার সামনে পুলিশ তাদের আটকালে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান, লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

তাদের দাবি, সেদিন দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কলম বিসর্জন কর্মসূচিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

শোকবার্তার পাশাপাশি আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ সোমবার দেশব্যাপী সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে কালো ব্যাজ ধারণ, দোয়া-মোনাজাত এবং এক মিনিট নীরবতা পালনের আহ্বান জানিয়েছে।

শিক্ষক নেতারা জানান, সোমবার সবাই মিলে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকরা অনলাইন গ্রুপগুলোতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর