কসাইখানা থেকে উদ্ধার ৩৪ ঘোড়ার চিকিৎসা চলছে 

কসাইখানা থেকে উদ্ধার ৩৪ ঘোড়ার চিকিৎসা চলছে 
ছবি: জাকির হোসেন/টাইমস
Advertisement
Advertisement

গাজীপুরের একটি ‘অবৈধ কসাইখানা’ থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৪টি ঘোড়ার চিকিৎসা চলছে চট্টগ্রামে। আহত ও দুর্বল ঘোড়াগুলোর চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে একেখান গ্রুপ ও ‘অভয়ারণ্য-বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে।

একেখান গ্রুপের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ পশুচিকিৎসক দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টার-এর পক্ষ থেকে ঢাকার স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক দলও ঘোড়াগুলোর চিকিৎসায় সাহায্য করছে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের লালখান বাজারের একেখান পরিবারের বাংলো এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আহত ও দুর্বল ঘোড়াগুলোর চিকিৎসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চিকিৎসকরা। প্রতিটি ঘোড়ার গলায় ঝুলছে নম্বর ট্যাগ। কোনোটির চোখে আঘাত, কোনোটির পায়ে ক্ষত, আবার কোনোটির অবস্থা খুব খারাপ।

ছবি: জাকির হোসেন/টাইমস

চিকিৎসক দলের প্রধান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, ১ নম্বর ঘোড়ার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। আরেকটি ঘোড়ার পেটে বাচ্চা রয়েছে। সব ঘোড়ার রক্ত পরীক্ষা চলছে, বায়োকেমিক্যাল প্রোফাইল যাচাই করে রোগ শনাক্ত করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ৩৫টি ঘোড়া চট্টগ্রামে আনা হয়। মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব ঘোড়া আমাদের কাছে আসার সময় মৃতপ্রায় ছিল। চিকিৎসা শুরুর পরও একটি ঘোড়া মারা গেছে। বাকিগুলোকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। পুরোপুরি সুস্থ হতে অন্তত চার থেকে ছয় মাস লাগবে, কোনোটির ক্ষেত্রে এক বছরও লাগতে পারে।’

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘোড়াগুলো ট্রমাটাইজড। ওরা মানুষের ভালো ব্যবহার পায়নি। সম্ভবত কসাইখানায় জবাইয়ের জন্যই একত্র করা হয়েছিল।’

ছবি: জাকির হোসেন/টাইমস

একেখান গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শারফেনাজ খান বলেন, ‘আমরা মানবিক বিবেচনায় এই প্রাণীগুলোর সেবা করছি। সুস্থ হওয়ার পর এগুলোকে এমন ব্যক্তিদের কাছে এডপশন দেওয়া হবে, যারা এগুলো দিয়ে কোনো ব্যবসা করবে না, বরং যত্ন ও ভালোবাসা দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাংস কেনায় মানুষকে সচেতন হতে হবে। গত এক শতাব্দীতে যত রোগ এসেছে, অনেকগুলোর উৎস ফার্মিং থেকে। যদি ঘোড়া, বিড়াল, কুকুরের মাংস খাওয়া শুরু হয়, তাহলে মানবজাতির জন্য সেটা ভয়াবহ হবে।’

ঘোড়াগুলোর পরিচর্যায় থাকা স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কেজি কাঁচা ঘাস ও ৩৩০ থেকে ৩৫০ কেজি দানাদার খাবার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।

ছবি: জাকির হোসেন/টাইমস

এর আগে, গত ৪ নভেম্বর রাতে গাজীপুর জেলার হায়দরাবাদ এলাকায় জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র‍্যাব-১ ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ৩৭টি ঘোড়া উদ্ধার করে। এর মধ্যে দুটি মারা যায়। বাকি ৩৫টি ঘোড়া চট্টগ্রামে আনা হয়, যেখানে আরও একটি মারা যায়। এখন বাকি ৩৪টি ঘোড়াকে সুস্থ করে তুলতে কাজ করছে একেখান গ্রুপ, অভয়ারণ্য-বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টার।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad