গাজায় জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে শনিবার ইসরায়েলের তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ার প্লাজা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তবে সমাবেশে অংশ নেওয়া ইসরায়েলিরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সম্ভাব্য মুক্তির এই কৃতিত্ব তারা নিজেদের সরকারকে নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই দিচ্ছেন।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ যখন মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন ভিড়ের ভেতর থেকে ইংরেজি স্লোগান ভেসে আসে—’থ্যাংক ইউ, ট্রাম্প! থ্যাংক ইউ, ট্রাম্প!’ মঞ্চে তার পাশে ছিলেন ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও জ্যারেড কুশনার।
স্টিভ উইটকফ বলেন, জিম্মিদের পরিবারগুলোর সাহস তাকে ব্যক্তিগতভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই রাতের স্বপ্ন দেখেছিলাম আমি।’ তিনি ইঙ্গিত করেন ট্রাম্প ও কুশনারের মধ্যস্থতায় হওয়া হামাস–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির চুক্তির দিকে, যার আওতায় সোমবারের মধ্যে বন্দিদের মুক্তি এবং বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।
সমাবেশে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্পষ্ট হলেও, নিজের দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিষয়ে জনসমর্থনের উচ্ছ্বাস ছিল না। অনেকেই প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এগুলোতে লেখা ছিল ‘আর দেরি নয়’, ‘বন্দিদের ফিরিয়ে আনো এখনই’! তারা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন যে, জিম্মিদের মুক্তিতে সরকারের ভূমিকাকে তারা সন্তোষজনক মনে করছেন না।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার উত্তরের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণায় ফিলিস্তিনিরা সেখানে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি নির্দেশে গাজার দক্ষিণে স্থানান্তরিত হওয়া ফিলিস্তিনি নাগরিকরা এখন তাদের আগের ঘরবাড়ি ও অঞ্চল ফিরে যাচ্ছেন।
ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানায়, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার আওতায় চূড়ান্ত সীমান্তে ফিরে গেছে; তবে তাত্ক্ষণিক হুমকি মোকাবেলা করার জন্য তারা তাদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করা হয়নি।
এই যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সোমবার দুপুর ১২টার (বাংলাদেশ সময় ১০টা) মধ্যে সমস্ত ইসরায়েলি আটক বন্দী মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলও কয়েক শ’ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেবে। দুই পক্ষের মধ্যে বন্দী বিনিময়ের এই চুক্তি গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানোর পথ সুগম করবে। এই চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সহায়তা ট্রাক গাজার দুই মিলিয়ন মানুষকে প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দিতে শুরু করবে।


