‘কয়েক দিনের মধ্যেই’ গাজায় আটক জিম্মিদের মুক্তির ঘোষণা দিতে পারবেন, এমন আশা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
বিবিসির লাইভ নিউজে বলা হয়, নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের কারণেই পরিস্থিতি এই পর্যায়ে এসেছে।
তিনি আরও বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র করা হবে এবং গাজাকে সামরিক শক্তি থেকে মুক্ত করা হবে—’সহজ বা কঠিন উপায়ে।’
তার এই মন্তব্য এল এমন সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অধীনে হামাস জিম্মিদের মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে সংগঠনটি পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও আলোচনার দাবি তুলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা শাসন থেকে হামাসের সরে দাঁড়ানো—নিয়ে তারা কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ না নিলে সব চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।’
অন্যদিকে এক মা বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমি আশা করি আবারও আমার ছেলেকে জড়িয়ে ধরতে পারব।’ তবে সব জিম্মি পরিবারের মধ্যে একই রকম আশাবাদ নেই।
অনেকেই আশঙ্কা করছেন, শেষ মুহূর্তে আলোচনার এই সমঝোতা ভেঙে পড়তে পারে।
এর আগে হামাস জিম্মিদের মুক্তি দিতে রাজি হওয়ায় ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল এক্স পোস্টে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের একটি পোস্ট শেয়ার করেছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, হামাস জিম্মি মুক্তিতে রাজি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসারায়েলের উচিত হবে গাজায় বোমা বর্ষণ বন্ধ করা।
তবে আল জাজিরার ব্রেকিং নিউজে বলা হয়, গাজার নিরাপত্তাবাহিনী জানিয়েছে, হামাস একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর ট্রাম্প ইসরায়েলকে বোমাবর্ষণ বন্ধ করার আহ্বান জানালেও গাজায় একাধিক হামলায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে বিবিসির নিউজে বলা হয়, হামাস জানিয়েছে, তারা বাকি সকল ইসরায়েলি জিম্মিকেকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের গাজা শান্তি পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আরও আলোচনা চায়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণে হামাসকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। রোববার ওয়াশিংটন সময় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে চুক্তি না হলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ঘোষিত এই ২০ দফা পরিকল্পনায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, হামাসের হাতে থাকা জীবিত ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তি এবং নিহতদের মরদেহ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেবে ইসরায়েল।


