ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় গাজার পশ্চিম তীরের রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য।
বিবিসির খবরে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপার বলেছেন, ‘তিনি ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন, তারা যেন ফিলিস্তিনকে যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম তীরের কোনো অংশ সংযুক্ত করার চেষ্টা না করে।’
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি এ কথা বলেন।
জাতিসংঘের সম্মেলনে ফ্রান্স এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে।
সবশেষ ফিলিস্তিনকে ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে পর্তুগাল। পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পাউলো র্যানজেন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, টেকসই শান্তি নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হিসেবে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে সমর্থন জানায় তার দেশ।
এর আগে রোববার পর্যায়ক্রমে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যদিয়ে শিল্পোন্নত (জি–সেভেন) সাত দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও কানাডা প্রথম ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল।
যদিও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইসরায়েলের জন্য বিপদ ডেকে আনবে।’
এ ব্যাপারে কুপারকে প্রশ্ন করলে বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইসরায়েল যেন কোনোভাবেই পশ্চিম তীরের কোনো অংশ সংযুক্ত করার চেষ্টা না করে।’
কুপার আরও বলেন, ‘খুব স্পষ্টভাবে বলেছি যে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা একসঙ্গে রক্ষার জন্য আমরা এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। এটি শান্তি, ন্যায়বিচার–বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ থেকে উগ্রবাদীরা সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যা আবারো চালু করার জন্য যুক্তরাজ্যের নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।’
‘শান্তি প্রক্রিয়া সহজ হতে পারতো, তবে কাজটি কঠিন করা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন আমরা এতো ধ্বংস, দুর্দশা দেখছি’ কুপার বলেন।
‘যেভাবে আমরা ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছি, তেমনি আমাদের ফিলিস্তিনিদেরও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পাওয়ার অধিকার স্বীকার করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
তবে কবে নাগাদ যুক্তরাজ্য পূর্ব জেরুজালেমে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস চালু করবে, এ বিষয়ে কুপার কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর সাথে সাথে এটিও চলতে থাকবে।’
রোববার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক ভিডিও বার্তায় ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহতা বাড়তে থাকার মুখে আমরা দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান ও শান্তির সম্ভাবনাকে জাগিয়ে রাখতে কাজ করছি। এর অর্থ একটি টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পাশে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত ইসরায়েল, যার কোনোটি এই মুহূর্তে আমরা দেখছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সময় এখন এসেছে। তাই আজ দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান ও শান্তির আশা পুনরুজ্জীবিত করতে আমি স্পষ্টত ঘোষণা করছি যে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।’
সবশেষ পর্তুগালের ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫১।


