মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কালিগঙ্গা এবং মৌলভীবাজারের শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর বুকে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দুটি নদীর তীরে ছিল উৎসবের আমেজ, যে উৎসবে মেতে ওঠেন হাজারো মানুষ।
শুক্রবার কালিগঙ্গা নদীতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আগে নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয় নানা ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা। এর মধ্যে ছিল হাডুডু, সাঁতার প্রতিযোগিতা, দড়ি টানাটানি ও দৌড় প্রতিযোগিতা।
স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, ‘নৌকাবাইচ দেখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে ছুটে এসেছেন। চারপাশে শুধু মানুষের ভিড় আর আনন্দ। এ যেন এক মিলনমেলা। ছোটবেলায় এমন আয়োজন দেখতাম, কিন্তু অনেক বছর আগে তা হারিয়ে গিয়েছিল। আবার এই পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে আসায় আমরা আনন্দিত।’

কালীগঙ্গায় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ, জয় আলী, আলিফ এক্সপ্রেস, হারানো মানিক, দাদা নাতি, কাতার এক্সপ্রেস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের নৌকা।
প্রতিযোগিতা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বৈঠার ছন্দে ছুটে চলা এসব নৌকা তীরের দিকে এগোতে থাকে। আর তীর জুড়ে দাঁড়ানো দর্শকরা করতালি, উল্লাস ও স্লোগানে মুখরিত করে তোলে চারপাশ।
বিজয়ী দলকে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় রেফ্রিজারেটর। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী দলসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে দেওয়া হয় সান্ত্বনা পুরস্কার।
মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ বলেন, নৌকাবাইচ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। এ ধরনের আয়োজন মানুষকে আনন্দ দেয়, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন শক্তিশালী করে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি নতুন অভিজ্ঞতা।
একইদিনে মৌলভীবাজারের শেরপুর উপজেলার হামরকোনা গ্রামবাসীরা কুশিয়ারা নদীর বুকে আয়োজন করেন নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। তা দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করে শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ। সেই সঙ্গে বাতাসে ভেসে আসে বাঁশির সুর, ভাপা পিঠা ও বাদামের সুগন্ধ।

নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার সময় স্পিডবোটে উঠে সবাইকে অভ্যর্থনা জানান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।
প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া নবীগঞ্জের বাগাউড়ার মরম আলীর তরী পুরষ্কার হিসেবে পায় একটি মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় হওয়া গোতগাওয়ের এসকের তরী পায় একটি বড় রেফ্রিজারেটর। বল্লভপুরের কানাই শাহের তরীও তৃতীয় পুরষ্কার হিসেবে পায় রেফ্রিজারেটর। মিলিক জাগন্নাথপুরের ঈশানের তরী প্রতিযোগিতায় চতুর্থ হয়ে পায় এলইডি টিভি।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি এম নাসের রহমান বলেন, ‘নৌকাবাইচ আমাদের গ্রামের প্রাণ। নদী আর বৈঠার এই উৎসব শুধু বিনোদন নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার প্রতিজ্ঞা। আজকের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে, কুশিয়ারার ঢেউ এখনও আমাদের সংস্কৃতির স্পন্দন বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’


