কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পূর্ব সাগর এলাকা থেকে জেলেসহ মাছ ধরার পাঁচটি ট্রলার ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মির’বিরুদ্ধে।
বুধবার বিকেলে সাগরে মাছ ধরার সময় সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছের ওই এলাকা থেকে অন্তত ৪০ জন জেলেসহ এই পাঁচটি ট্রলার ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সাগরে মাছ ধরার সময় পাঁচটি ট্রলারসহ জেলেদের মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।’
ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় এক জেলে জানান, সেন্ট মার্টিনের পূর্ব সাগরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ মিয়ানমার পানিসীমা থেকে একটি স্পিডবোট এসে জেলেদের ধাওয়া করে। পরে আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ করে এবং জেলেসহ পাঁচটি ট্রলার ধরে নিয়ে যায়। এসব ট্রলারে অন্তত ৪০ জন জেলে ছিলেন।
টেকনাফ খাইয়ুক খালী ঘাটের ট্রলার মালিক সমিতির নেতা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘পাঁচটি ট্রলারের মধ্যে টেকনাফ ঘাটের তিনটি এবং শাহপরীর দ্বীপ ঘাটের দুটি ট্রলার রয়েছে।’
তবে এসব ট্রলারের মালিকদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশি জেলেসহ ট্রলার অপহরণের এই ঘটনা নতুন নয়।
গত ২৩ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয়টি ট্রলারসহ ৬৪ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। এসব জেলেদের এখনো দেশে ফেরানো যায়নি।
জেলেদের নিরাপদে ফেরাতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ট্রলার মালিক সমিতি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে সাগর থেকে ট্রলারসহ মাঝিমাল্লা ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’
ট্রলার মালিক সমিতি ও বিজিবি সূত্র মতে, গত আট মাসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদ সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ৩১৮ জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এদের মধ্যে বিজিবির সহায়তায় অন্তত ২০০ জনকে ফেরত আনা হলেও অন্য জেলেরা এখনো তাদের হেফাজতে রয়েছে।


