চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি কমতে শুরু করলেও এখনো পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। পানি নামার গতি খুবই ধীর হওয়ায় সদর উপজেলার আলাতুলী ও নারায়ণপুর এবং শিবগঞ্জের পাঁকা, উজিরপুর, দুর্লভপুর ও মনাকষা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। ফলে এসব এলাকার মানুষ এখনো চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
তবে সংবাদ সংস্থা ইউএনবি জানায়, ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা উপদ্রুত এলাকাগুলোতে মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কোথাও কোথাও উঁচু এলাকায় পানি নেমে যাওয়ায় ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে।
শিবগঞ্জের চরাঞ্চল পাঁকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, নদীতে পানি কমায় মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি এলেও বন্যায় ধানসহ বিভিন্ন ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।
তিনি বলেন, ‘যেভাবে পানি নামছে, তাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে।’
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ‘পানি কমছে, তবে খুব ধীরগতিতে। এখনো অনেক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। মানুষ খাবারের কষ্টে আছে। সরকারিভাবে কিছু ত্রাণ বিতরণ হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পানিবন্দি মানুষের জন্য ২৮ মেট্রিক টন চাল এবং কিছু শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, ত্রাণের কোনো সমস্যা নেই। উপজেলা প্রশাসন তালিকা তৈরির কাজ করছে। তাদের কাছ থেকে চাহিদাপত্র পাওয়া গেলে আবারও বরাদ্দ দেওয়া হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি ১৭ সেন্টিমিটার কমে রবিবার বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’
টানা সাতদিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং ২ হাজার হেক্টর জমির আউশ, আমন ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়।


