‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে পদযাত্রা ও সমাবেশ করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির এমন কর্মসূচি ঘিরে বুধবার রাতে পুলিশের গাড়িতে আগুনের ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে গোপালগঞ্জজুড়ে।
রাজনৈতিক এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনমনে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোপালগঞ্জ শহর ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম। দোকানপাট তেমন একটা খোলেনি।
পদযাত্রা শেষে গোপালগঞ্জ পৌরপার্কে এনসিপির সমাবেশ সকাল ১০টায় হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সমাবেশ শুরু হয়নি। এ পর্যন্ত সমাবেশ প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে। এনসিপির স্থানীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, সমাবেশ বেলা ১২টার দিকে অনুষ্ঠিত হবে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বরিশাল অবস্থান করছেন। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে তারা গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। তবে এ পর্যন্ত সমাবেশস্থলে এনসিপির উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আওয়ামী লীগ সমর্থক এনসিপির কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি সারা জীবন আওয়ামী লীগ করেছি, কিন্তু আমার ছেলে-মেয়েরা তো আন্দোলন করেছে। আমরাও ছাত্রজীবনে আন্দোলন করেছি, আমি বুঝি তাদের দেশপ্রেম। এই ছাত্ররা অনেক দূর যাবে। তবে আওয়ামী লীগ পতনের পর গোপালগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো না। আমার ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে।’

পুলিশের গাড়িতে আগুন
এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদরে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, আগুন দেওয়ার সময় তারা ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ বলে স্লোগান দেয়।
এ প্রসঙ্গে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান জানান, এনসিপি’র মাসজুড়ে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্কে পদযাত্রায় বুধবার কেন্দ্রীয় নেতাদের আসার কথা রয়েছে। তাদের পদযাত্রা বানচাল করতে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশের দু’জন সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হচ্ছেন– কনস্টেবল কাওসার হোসেন ও মিনহাজ সরকার। তাদের গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইউএনও’র গাড়িবহরে হামলা
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িবহরে হামলা, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার গান্ধিয়াশুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসান।
সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এনসিপি’র পদযাত্রা বানচালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকেরা সদর উপজেলার গান্ধিয়াশুর এলাকায় ইউএনওর গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর করেছে।
গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের আগমন উপলক্ষে যথেষ্ট নিরাপত্তা রাখা হয়েছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্সসহ অন্তত ৬ শতাধিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন আছে। এছাড়াও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা সজাগ রয়েছি।
জেলা এনসিপি’র সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই শুরু হওয়া ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় নেতা সামান্তা শারমিন, ডা. তাসনিম জারা, নাহিদা সারোয়ার নিবাসসহ অন্যান্য নেতারা গোপালগঞ্জে আসছেন। সেখানে তারা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সভায় বক্তব্য রাখবেন।


