নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক আন্দোলনে দেড় হাজার আসামি, গ্রেপ্তার ৬

নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক আন্দোলনে দেড় হাজার আসামি, গ্রেপ্তার ৬
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার ছয়জনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শামীম হাসান (২৮), মো. মামুন (২৬), মো. ওমর ফারুক (৩৮), ইমান ইমন (২৬), শাহিন আহম্মেদ ও আতিকুর রহমান (২৫)। তারা ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক শামিম গ্রেপ্তার ও রিমান্ড আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এজাহারে নাম থাকা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগ নেতা আজমত আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল, কার্যকরী সদস্য মজিবর, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু, রাকিব হোসেন, ওয়াসিম, রতন, মো. রাকিব, ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও সেলিম। এ ছাড়া প্রজন্মলীগের ফতুল্লা থানা শাখার সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত জনিসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল ও ইরান টেক্সটাইল এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন। আবির ফ্যাশন, পলমল গার্মেন্টস, মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার ও মডার্ন গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা শিবু মার্কেট থেকে ফতুল্লা স্টেডিয়াম পর্যন্ত চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড লিংক রোড অবরোধ করেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বেতন বৃদ্ধির দাবিকে সামনে রেখে শ্রমিকদের সংগঠিত করার পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ইন্ধন ছিল। তাদের উসকানিতে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড, সরকার উৎখাতের চেষ্টা ও দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের পরিকল্পনা ছিল বলেও অভিযোগ পুলিশের।

এ সময় ইটের আঘাতে কনস্টেবল নাঈম ও সাগর আহত হন। উৎসব ও বন্ধন পরিবহনসহ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা ৮৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন। ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও মুন্সিগঞ্জে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের গ্যাসগান থেকে এসব টিয়ারশেল ছোড়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad