বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি (২৭) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনিম দিশাকে (১৯) আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার ফের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
এদিন ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানি হবে বলে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
এর আগে, রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত বান্ধবী দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করে, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা তাহসিফের সঙ্গে ঘটনার আগে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ও সময় কাটানোর তথ্য দিয়েছেন। ঘটনার দিন উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’ একাধিকবার খাবার খাওয়া এবং রাতে ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে এসব স্থানে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা বাকবিতণ্ডা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার আগে ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফ ও দিশা একসঙ্গে নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যান। এ ছাড়া মোটরসাইকেলের গ্যারেজেও তারা একসঙ্গে গিয়েছিলেন বলে দিশা জানিয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে তাহসিফের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি কিছু প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গেছেন বলেও দাবি পুলিশের।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মামলার অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ (২৩) বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। দিশা ও দীপের দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই করা প্রয়োজন। এ ছাড়া তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে দিশার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আজ রিমান্ড আবেদনে সাতটি কারণ উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তার মতে, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দিশার মধ্যে কোনো বিরোধ বা বাকবিতণ্ডা হয়েছিল কি না, তাদের সম্পর্কের মধ্যে আগে থেকে কোনো টানাপোড়েন ছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া দিশা ও দীপের বক্তব্য যাচাই এবং মামলার আলামত উদ্ধারের বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিশাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।


