শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।
সোমবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এ বিষয়ে ‘নো অর্ডার’ দেয়। ফলে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের আদেশ বহাল থাকল। এতে তার কারামুক্তিতে আইনী বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির।
এর আগে রোববার এ মামলায় হাইকোর্টে জামিন পান মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল এবং বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আবেদনের শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করে। হাইকোর্টের সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।
গত ২৬ অক্টোবর ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সালেকীন হাবিব বাপ্পীর আদালত আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে ঢাকার সিএমএম আদালতেও তার জামিন আবেদন নাকচ হয়। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে আসেন।
গত ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
পরদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে তা হুমকি-ধমকিতে গড়ায়। পরে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনে কটিয়াদী আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি জয়লাভ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।


