শনিবার বিকাল। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ব্যস্ত নগরকেন্দ্র গোয়াংতোংগিয়ো সেতুর নিচে পাথর বিছানো চত্বরে সারি সারি চেয়ারে বসে আছেন নানা বয়সী মানুষ। মাথার ওপর দিয়ে ছুটে চলেছে যানবাহন, চারপাশে শহরের চিরচেনা কোলাহল। কিন্তু তাতে যেন কারও তেমন ভ্রুক্ষেপ নেই।
পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে চেওংগিয়ে জলধারা। পানির কলকল শব্দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে পাশেই কোথাও বাজতে থাকা ধ্রুপদি সংগীত। কেউ গল্প করছেন, কারও চোখ আবার মোবাইলের রিলসে (স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও)।
খুব চেনা পরিচিত এমন দৃশ্যের মধ্যে চোখ আটকে যায় বইয়ের মাঝে ডুবে থাকা এক তরুণীর দিকে। মাটিতে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন জার্মান সাহিত্যিক হারমান হেসের বিখ্যাত উপন্যাস ‘ডেমিয়ান’-এর কোরিয়ান ভাষার সংস্করণ। বইটি এতটাই ছোট যে চাইলে হাতের তালুতেই ধরে রাখা যায়।
জানা যায়, ২৬ বছরের ওই তরুণীর নাম লি ইউনজি। আপাতদৃষ্টিতে তাকে বইপ্রেমী মনে হলেও কিছুক্ষণ পরই তিনি হেসে জানান, আসলে তিনি বই পড়ার অভিনয় করছেন!
মোবাইল আর রিলসের যুগে তরুণ কিংবা উঠতি বয়সী কারও এমন বইয়ের নেশায় বুদ হয়ে থাকা বেশ ব্যতিক্রমীই বটে। তবে ইউনজির বইয়ের নেশায় বুদ হয়ে থাকার দৃশ্যটি দক্ষিণ কোরিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশটিতে বই পড়া এখন কেবল জ্ঞান অর্জন কিংবা অবসর কাটানোর মাধ্যম নয়, হয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় এক ট্রেন্ড।
এই নতুন প্রবণতার নাম দেওয়া হয়েছে ‘টেক্সট হিপ’। ইংরেজি শব্দ ‘টেক্সট’ অর্থাৎ লিখিত বিষয় এবং ‘হিপ’ অর্থাৎ আধুনিক ও আকর্ষণীয় – এই দুই শব্দের সমন্বয়ে নামটির উৎপত্তি। এর মাধ্যমে এমন এক সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে তরুণেরা বই পড়া ‘উপভোগ’ করাকে আধুনিক, অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় অভ্যাস হিসেবে দেখছেন।
কয়েক বছর আগেও প্রযুক্তির কল্যাণে বইপ্রেমীদের মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইসে ই-বুক পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে দেখা গিয়েছে। এতে বিখ্যাত লেখকদের সেরা বইয়ের পিডিএফ সহজলভ্য হয়ে ওঠায় ছাপাবই কিনতে অনাগ্রহ ক্রমাগত বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে ছাপা কারখানার মালিকরাও ধীরে ধীরে বই ছাপানোর কাজ হারিয়েছেন।
তবে সেই অভ্যাস থেকে আবারও ছাপা বইয়ের দিকে ঝুঁকছেন দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণরা। এমনকি ছাপা বই পড়ার পাশাপাশি পড়ার সময়টিকে আরও উপভোগ্য করতে তৈরি হচ্ছে নানা পণ্য। বইয়ের পাতা থেকে পাঠের অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা গ্রুপ, পেজ কিংবা বইপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় সাজসজ্জার ক্যাফে, পাঠাগার, সাহিত্য আড্ডা ও দৈনন্দিন জীবনে।
কোরিয়ান কালচার ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, এই পরিবর্তনের একটি বড় উদাহরণ দেখা যায় ২০২৪ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত সিউল আন্তর্জাতিক বইমেলায়। পাঁচ দিনব্যাপী ওই আয়োজনে প্রায় দেড় লাখ দর্শনার্থী অংশ নেন। তাদের ৭০ শতাংশেরই বয়স ছিল ২০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে।
বইমেলার এই পরিসংখ্যানই দেখিয়ে দেয়, দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণদের মধ্যে বইয়ের প্রতি আগ্রহ কতটা বেড়েছে।
এর কয়েক মাস পর, ২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার কথাসাহিত্যিক হান কাং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করলে তরুণদের বই পড়ার এই ট্রেন্ড আরও গতি পায়।
হান কাংয়ের নোবেল জয় শুধু তার বইয়ের প্রতিই পাঠকের আগ্রহ বাড়ায়নি বরং বই ও লিখিত নানা বিষয়বস্তুকে ঘিরে আগে থেকেই গড়ে ওঠা নানা সাংস্কৃতিক উদ্যোগকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
বিশেষ করে বই পড়া, ব্যক্তিগত নথি, প্রকাশনা, চিঠিপত্র, পাণ্ডুলিপি এবং সামাজিক ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখার জনপ্রিয়তা তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়তে থাকে।
এর প্রভাবে দেশটিতে যেমন ছাপা বইয়ের বিক্রি বেড়েছে তেমনি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বই পড়ার সহায়ক সামগ্রীর বিক্রি। মানুষ বইয়ের পাশাপাশি কিনছেন জার্নাল, ডায়েরি, বুকমার্ক (পাতা চিহ্ন করে রাখার সরঞ্জাম), এক হাতে বই ধরে পড়ার সুবিধার জন্য আংটি সদৃশ বস্তু, শুয়ে বই পড়ার উপযোগী বই রাখার স্ট্যান্ড, রঙ্গিন কলমসহ নানা জিনিস।
অনেকে নিজেদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী এসব সরঞ্জাম বানিয়ে নিচ্ছেন। সেগুলো প্রদর্শন করা, বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করা কিংবা বিশেষ দিনে উপহার দেওয়াও নতুন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।
একসময় সিউলে লাইব্রেরিকে কেবল বই সংগ্রহ ও সরকারি নথি সংরক্ষণের সরকারি পরিসর হিসেবে দেখা হতো। এখন অনেকের কাছে সেই পাঠাগার হয়ে উঠেছে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের জায়গা।
বই পড়ার জন্য বিশেষভাবে সাজানো ক্যাফে ও বারগুলোতেও বাড়ছে তরুণদের আনাগোনা। সেখানে কফি কিংবা চা পান করতে করতে বই পড়া, আড্ডা দেওয়া, বইয়ের রিভিও কিংবা সাহিত্যভিত্তিক আয়োজনে অংশ নেওয়াও অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
এমনকি বই বা সাহিত্যকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ আয়োজনের খবর পেলে দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ ছুটে যাচ্ছেন।
পাঠকদের এই আগ্রহ কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পাঠাগারগুলোও বদলে ফেলছে নিজেদের কার্যক্রম। বই পড়ায় উৎসাহ দিতে বিভিন্ন পাঠাগার আয়োজন করছে বিশেষ অনুষ্ঠান। কোনো কোনো সংগঠন বনভোজনের মতো আয়োজন করছে নিরিবিলি, প্রকৃতির সঙ্গে পাঠক আড্ডা। ধার দিচ্ছে মাদুর, চেয়ার। উদ্দেশ্য, খোলা পরিবেশে আরাম করে বই পড়ার সুযোগ তৈরি করা।
অন্যদিকে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো আয়োজন করছে অস্থায়ী বিক্রয় ও প্রদর্শনকেন্দ্র। সেখানে নিজেদের প্রকাশিত বই নিয়ে প্রদর্শনী, পাঠ অনুষ্ঠান এবং সাহিত্যভিত্তিক নানা আয়োজন করা হচ্ছে।

বইয়ের প্রতি এই নতুন ভালোবাসা শুধু ব্যক্তিগত পাঠাভ্যাসের মধ্যেও সীমাবদ্ধ নেই। অনেকেই এখন দলবদ্ধভাবে বই পড়ছেন, নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন এবং সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করছেন। কেউ প্রিয় লেখার অংশ নিজের হাতে লিখে অনুলিপি তৈরি করছেন আবার কেউ শুনছেন লেখকদের অভিজ্ঞতা। অনেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরাই বই লেখার উদ্যোগ নিচ্ছেন। অনেকে প্রতিদিন লেখার অভ্যাস গড়ে তুলে ব্যক্তিগত দক্ষতা ও চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা করছেন।
তবে তরুণ সমাজের এমন আসক্তি প্রযুক্তির সঙ্গেও দারুণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। বই বিষয়ক নানা আয়োজনে সরাসরি উপস্থিত থাকার পাশাপাশি অনলাইনেও গড়ে উঠছে পাঠকগোষ্ঠী। দূর থেকে ভিডিওকলের মাধ্যমে সাহিত্য আলোচনা, মতবিনিময় এবং পড়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন অনেকে।
বই পড়াকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। কম্পিউটারে পছন্দের বই থেকে অনুপ্রেরণা যোগানো কোনো অংশ অনুলিপি করার একটি ইভেন্ট সম্প্রতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বইপ্রেমীদের সেই আগ্রহ থেকে অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাজারে আনছেন নিত্যনতুন মোবাইল অ্যাপ। যেখানে ধ্রুপদি সাহিত্য (ক্লাসিক্যাল লিটারেচার) থেকে প্রতিদিন একটি করে ভালো বাক্য পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই বাক্য ক্যাপশন দিয়ে বইয়ের ছবিসহ সামাজিকমাধ্যমগুলোতে পোস্ট করাও হয়ে ওঠে নতুন ট্রেন্ড।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় বই ও লিখিত বিষয়বস্তুকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে তরুণ প্রজন্ম বড় হয়েছে মুঠোফোন, রিলস, ভ্লগিং ও দ্রুত বিনোদনের জগতে, তাদের কাছে হঠাৎ বই পড়া এত আকর্ষণীয় হয়ে উঠল কেন?
এই পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথমত, তরুণেরা সব সময় নতুন ধরনের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা খোঁজেন। আগের প্রজন্মের মানুষের কাছে কাগজে ছাপা লেখা কিংবা দীর্ঘ রচনা পড়া পরিচিত অভ্যাস হলেও বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অভিজ্ঞতা ভিন্ন।
তারা তুলনামূলকভাবে বেশি অভ্যস্ত ভিডিও ও শব্দনির্ভর বিষয়বস্তুর সঙ্গে। ফলে কাগজে ছাপা বই হাতে নিয়ে দীর্ঘ লেখা পড়া তাদের কাছে অনেকটাই নতুন ও ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।
অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরার আকাঙ্ক্ষাও এখানে কাজ করছে। বই পড়ার মতো তুলনামূলক অপরিচিত অভ্যাসের মাধ্যমে নিজেদের ব্যতিক্রম ও নতুন ধারার পথিকৃৎ (ট্রেন্ড সেটার) হিসেবে তুলে ধরে তারা এক ধরনের তৃপ্তি পাচ্ছেন। অনেকের কাছে এটি নিজের রুচি, ব্যক্তিত্ব ও স্বাতন্ত্র্য প্রকাশের মাধ্যমও হয়ে উঠেছে।
দ্বিতীয়ত, রিলসের মতো দ্রুতগতির ও উত্তেজনাপূর্ণ বিনোদন থেকে কিছুটা দূরে থাকার আকাঙ্ক্ষা তরুণদের বইয়ের দিকে ফিরিয়ে আনছে।
গত কয়েক বছরে অল্প সময়ে একের পর এক উত্তেজক বিষয়বস্তু দেখার অভ্যাস অনেক মানুষের মধ্যে আসক্তির মতো তৈরি হয়েছে। এর ফলে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা এবং পড়া ও বোঝার দক্ষতায় ঘাটতি দেখা দেওয়ার বিষয়গুলো সামাজিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার সহজ পথ হিসেবে বইকে বেছে নিচ্ছেন তরুণেরা।
তাদের কাছে বই পড়া এমন একটি অভ্যাস, যা গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ দেয়, অর্থবহ বিষয় সম্পর্কে সচেতন করে এবং ব্যক্তিগত মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। অর্থাৎ দ্রুত বিনোদনের পরিবর্তে মনোযোগ, চিন্তাশীলতা ও সুস্থ আত্মবিকাশের দিকেও ঝুঁকছেন অনেকে।
তৃতীয়ত, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বিনোদনজগতের তারকাদের প্রভাবও এই প্রবণতা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এর শুরুটা হয়েছিল দেশটির পপসংগীতের ইতিহাসের জনপ্রিয় বিভিন্ন দলের (বিটিএস, ব্ল্যাকপিঙ্ক, এক্সো, সেভেনটিন) সদস্যদের বই পড়ার পরামর্শ দেওয়া কিংবা বিমানবন্দরে হাতে বই নিয়ে ছবি তোলার মধ্য দিয়ে। তারকাদের এমন অভ্যাস দ্রুতই ভক্তদের নজর কাড়ে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দরভাবে নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে পারেন কিংবা বিদেশি ভাষায় দক্ষতার পরিচয় দেন, এমন তারকাদের বুদ্ধিবৃত্তিক আকর্ষণ ভক্তদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
প্রিয় তারকা কোন বই পড়ছেন বা কোন বই পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, তা জানারও আগ্রহ বাড়তে থাকে ভক্তদের মধ্যে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় পপ সংস্কৃতির তারকাকেন্দ্রিক বিশাল ভক্তগোষ্ঠীর সংস্কৃতি রয়েছে। ফলে প্রিয় শিল্পীর অভ্যাস ও রুচি অনুসরণ করতে গিয়ে বহু তরুণ বই পড়ার দিকে ঝুঁকেছেন। এভাবেই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়টি ধীরে ধীরে বৃহত্তর সামাজিক ধারায় রূপ নিয়েছে।
তবে ‘টেক্সট হিপ’-এর শুরুতে সমালোচনাও কম হয়নি। অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তরুণেরা কি সত্যিই বই পড়ছেন, নাকি নিজেদের শিক্ষিত, রুচিশীল ও আধুনিক হিসেবে তুলে ধরার জন্য কেবল বই পড়ার ভান করছেন?
সিউলের চত্বরে বসে বই পড়ার অভিনয় করা লি ইউনজির ঘটনাও এমন প্রশ্নেরই বাস্তব উদাহরণ।
তবে টেক্সট হিপ সমর্থকদের যুক্তি, মানুষ যে উদ্দেশ্যেই বই হাতে তুলে নিক না কেন, শেষ পর্যন্ত এর ইতিবাচক প্রভাবই বেশি। বই পড়াকে ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করার মধ্য দিয়েও নতুন পাঠক তৈরি হচ্ছে। প্রকাশনা শিল্পের জন্য খুলে যাচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দরজা।
বিশেষ করে ই-বুক ও ডিজিটাল মাধ্যমের প্রতিযোগিতায় চাপে থাকা প্রচলিত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। একই সঙ্গে পাঠাগার, লেখক, প্রকাশক এবং বইকে ঘিরে গড়ে ওঠা ব্যবসা ও সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এই পরিবর্তনের সুফল পাচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠাভ্যাসের বিকাশে ‘টেক্সট হিপ’ তাই এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছে। এই প্রবণতা দেশটির বই পড়ার সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করার চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


