চারপাশে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার কালো ইঁদুর। কোথাও বিশাল পাত্রে রাখা দুধ পরম তৃপ্তিতে পান করছে তারা, আবার কোথাও ভক্তদের পায়ের ওপর দিয়েই সানন্দে ছোটাছুটি করছে। কোনো ভয় নেই, নেই তাড়ানোর তাগিদ। ভারতের রাজস্থানের দেশনোকে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ‘করণী মাতা’ মন্দিরে গেলে দেখা মেলে এমনই এক বিস্ময়কর দৃশ্যের। ভারতজুড়ে যা একনামে পরিচিত—‘ইঁদুরের মন্দির’।
চলতি নবরাত্রি মেলা উপলক্ষে সোমবার এই ঐতিহাসিক মন্দিরে হাজার হাজার ভক্ত ও পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে। পূজার প্রথা অনুযায়ী, ইঁদুরগুলোর জন্য প্রসাদ হিসেবে ভক্তরা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন খাঁটি দুধ, মিষ্টি ও নানা পদের শস্যদানা। ভক্তদের বিশ্বাস, এই প্রাণীগুলো সাধারণ কোনো জীব নয়, বরং অত্যন্ত পবিত্র। এমনকি ইঁদুরের মুখ দেওয়া প্রসাদ গ্রহণ করাকেও তারা দেবীর পরম আশীর্বাদ বলে মনে করেন।
স্থানীয় অধিবাসী ও ভক্তদের কাছে এই ইঁদুরগুলো পরম আদরের ‘কাব্বা’ নামে পরিচিত। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এসব ইঁদুর আসলে চতুর্দশ শতাব্দীর খ্যাতনামা সাধক দেবী করণী মাতার পরিবারেরই পুনর্জন্মপ্রাপ্ত সদস্য। তাই মন্দির প্রাঙ্গণে এদের যাতে সামান্যতম অনিষ্ট না হয়, সে জন্য দর্শনার্থীরা খালি পায়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলে চলাফেরা করেন।
হাজার হাজার কালো ইঁদুরের সাগরে যদি আচমকা কোনো ‘সাদা ইঁদুরে’র দেখা মেলে, তবে তো কথাই নেই! ভক্তরা মনে করেন, সাদা ইঁদুর দেখা মানেই দেবীর সরাসরি কৃপাদৃষ্টি লাভ এবং পরম সৌভাগ্যের লক্ষণ।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ও ভক্তদের দাবি, ১৯৯৪ সালে যখন সমগ্র অঞ্চলে মরণঘাতী ‘প্লেগ’ রোগ মারাত্মক মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখনও এই মন্দিরের কোনো ইঁদুর কিংবা একজন ভক্তও এতে আক্রান্ত হননি।
দেবী দুর্গার অবতার হিসেবে পূজিত করণী মাতাকে ঘিরে এই মন্দিরে বছরে দুইবার ঐতিহ্যবাহী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কোনো রোগবালাই বা সংক্রমণের ভয় তো দূরের কথা—সব দ্বিধা ভুলে প্রতিবছর শুধুমাত্র মনস্কামনা পূরণের আশায় রাজস্থানের এই ইঁদুরের মন্দিরে ছুটে আসেন হাজার হাজার মানুষ।


