ইতালির মিলান শহরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আগেভাগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিলাসবহুল পণ্যের দোকান।
দুই দিন ধরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার পর শহরটির নিরাপত্তায় ৫০০ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
সোমবার ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি এ ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য নিরাপত্তাবিষয়ক পদক্ষেপের প্যাকেজে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
সালভিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘কথা থেকে কাজে: মিলানকে রক্ষায় আরও ৫০০ সেনা।’
সহিংসতার আশঙ্কায় সোমবার মিলানের কেন্দ্রীয় এলাকার দোকানগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানালায় লাগানো হয় কাঠ ও পিচবোর্ডের পাটাতন। শহরের অভিজাত কেনাকাটার এলাকা ভিয়া মন্টেনাপোলিওনে শ্যানেল, টিফানি ও ডিওরের মতো ব্র্যান্ডের অধিকাংশ দোকানের জানালায় সাজিয়ে থেকে পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় সড়কে পুলিশের টহল দিতে দেখা যায়।
শনিবার সরকারি সেবার নিম্নমান ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সপ্তাহান্তে কয়েকশ মুখোশধারী বিক্ষোভকারী শহরের কেন্দ্রে ডাস্টবিনে আগুন দেয় এবং বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালায়। তাদের অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, লুটপাটের শিকার দোকানগুলোর মধ্যে ছিল ক্রীড়াসামগ্রীর বিক্রেতা ডেকাথলন ও আর্ক’টেরিক্স এবং মোবাইল ফোন অপারেটর ভোডাফোন। এ ছাড়া লিভাইস ও আন্ডার আর্মারের মতো পোশাকের ব্র্যান্ড এবং ডেকাথলনের দোকানের জানালা কাঠ ও পিচবোর্ড দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
আগামী বছর জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সোমবার মন্ত্রী ও নিরাপত্তাপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এসব হামলার জবাবে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ইতালির সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেলা সেরা জানিয়েছে, সহিংসতা ঠেকাতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিরোধমূলক আটক রাখার মেয়াদ বাড়ানো এবং কিশোর অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন মেলোনি। এ ক্ষেত্রে পার্লামেন্টে বর্তমানে পর্যালোচনাধীন একটি নিরাপত্তা বিলের কিছু বিধান আগেই কার্যকর করা হতে পারে।
ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, রোববার মিলানে সহিংসতার ঘটনায় ২৭১ জন তরুণকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আরও ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচারিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার মিলানসহ উত্তর ইতালির বোলোনিয়া, ব্রেসিয়া, বার্গামো ও তুরিন শহরেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ২৮ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইতালির এই অস্থিরতার সঙ্গে প্রতিবেশী ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের মিল রয়েছে। সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার লাখো মানুষ রাস্তায় নামেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশটির অন্যতম সহিংস বিক্ষোভে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


