ব্যালন ডি’অরের ভোটে আবারও চাঙ্গা মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ

ব্যালন ডি’অরের ভোটে আবারও চাঙ্গা মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের আগে এক বিস্ময়কর ভোটাভুটিতে লিওনেল মেসির চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এর মধ্য দিয়ে ফুটবল বিশ্বে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে দুই কিংবদন্তি অসাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। এ আয়োজন সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমীরা ইতিহাসের সেরা মুহূর্তগুলো স্মরণ করছেন এবং কোন কিংবদন্তির কোন মৌসুম সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য, তা নিয়ে বিতর্কে মেতেছেন।

ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে বিশেষ এক ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়েছে। এতে একাধিকবার মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জেতা ১০ কিংবদন্তির সেরা পুরস্কারজয়ী মৌসুম বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ভক্তরা।

তালিকায় রয়েছেন রোনালদো, মেসি, রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেদো দি স্তেফানো। অক্টোবরের শুরুতে শুরু হওয়া এই ভোটাভুটি প্যারিস সময় ২৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে।

তবে অস্বাভাবিক এক কারণে ভোটের পদ্ধতিটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রতিটি ভোটের জন্য এক ইউরো খরচ করতে হয়। একজন অংশগ্রহণকারী একাধিকবার ভোট দিতে পারেন, এমনকি একই খেলোয়াড়কে বারবার সমর্থনও জানাতে পারেন।

ভোটদাতাদের এ বছরের অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জেতার লটারিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ব্যালন ডি’অর ট্রফির একটি আইকনিক ছবিও কিনে ডাউনলোড করার সুযোগ রয়েছে। উদ্যোগটি সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করলেও এর ফলাফল মূলত অংশগ্রহণকারী ভক্তদের পছন্দের প্রতিফলন, ফুটবলের সর্বকালের সেরা অর্জনের চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়।

বর্তমানে ভোটাভুটিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ২০০৮ সালে রোনালদোর ব্যালন ডি’অর জয়ের মৌসুম। এখন পর্যন্ত ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছে তার সেই মৌসুম। সে সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন রোনালদো। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম দূরন্ত আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন

তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অরও জেতেন রোনালদো। পরে তিনি মোট পাঁচবার এই পুরস্কার অর্জন করেন।

অন্যদিকে, মেসির ঐতিহাসিক ২০১২ সালের মৌসুম পেয়েছে ১৩ শতাংশ ভোট। ব্যবধান বড় হলেও ওই বছরে আর্জেন্টাইন তারকার অর্জন ছিল অসাধারণ।

এক পঞ্জিকাবর্ষে ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করেছিলেন তিনি। তার ক্যারিয়ারের অবিস্মরণীয় এই রেকর্ড আজও ফুটবল ইতিহাসে অনন্য হয়ে রয়েছে।

ওই অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন মেসি। এর মধ্য দিয়ে সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন তিনি।

ভোটের তালিকায় পরের অবস্থানে রয়েছে মেসির ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম, যা পেয়েছে ৯ শতাংশ ভোট। কাতারে আর্জেন্টিনার স্মরণীয় বিশ্বকাপ জয়ের পর এই স্বীকৃতি অর্জন করেন মেসি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।

প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের হয়ে ওই মৌসুমে লিগ ওয়ান ও ফরাসি সুপার কাপও জেতেন মেসি। ৪১ ম্যাচে তার গোল ছিল ২১টি, পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেন ২০টি।

অন্য মৌসুমগুলো তুলনামূলকভাবে কম সমর্থন পেয়েছে। রোনালদোর ২০০৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে ৭ শতাংশ ভোট। ২০১৬ সালের মৌসুম পেয়েছে মাত্র ২ শতাংশ।

দুই সুপারস্টারের অন্য পুরস্কারজয়ী মৌসুমগুলোও খুব বেশি ভোট পায়নি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ভক্তরা কয়েকটি স্মরণীয় মৌসুমের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন।

ভোটাভুটির বাইরেও আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকে এগিয়ে চলেছেন এই দুই কিংবদন্তি-ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের কীর্তি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রোনালদো ১ হাজার ৩৪০ ম্যাচে ৯৮১টি গোল করেছেন। অন্যদিকে মেসির গোলসংখ্যা ১ হাজার ১৮০ ম্যাচে ৯৩৬টি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad