শারদীয়া দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর ঢাকা ব্যাটালিয়নের (২৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল ইসলাম
শুক্রবার ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে এসব বলেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে বিজিবি প্রস্তুত থাকবে। আমি বিশ্বাস করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’
সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাচাই না করে কোন তথ্য প্রচার করবেন না। সন্দেহজনক কোন কার্যক্রম নজরে এলে দ্রুতই নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করবেন। বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।’
দুর্গাপূজায় ঢাকার ১১২৬ মণ্ডপে ৭৩২৮ আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন
এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলা ও মহানগরীর এক হাজার ১২৬টি পূজামণ্ডপে সাত হাজার ৩২৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও নিরাপত্তা জোরদারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ছয়টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিম।
শুক্রবার ঢাকা জেলার জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রাশেদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঢাকা জেলার সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার ৮৬৬টি পূজামণ্ডপে পাঁচ হাজার ৫৩২ জন এবং ঢাকা মহানগরীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম জোনের ২৬০টি পূজামণ্ডপে এক হাজার ৭৯৬ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় পূজামণ্ডপগুলোকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপে দুইজন করে নারী আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তারা নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপদ চলাচলে সহায়তা করবেন।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় ছয়টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে এসব টিম সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয়ের জন্য ঢাকা জেলা পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা ও থানা পর্যায়েও নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে।

দায়িত্ব পালনের আগে উপজেলা ও থানা পর্যায়ে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ব্রিফিং প্যারেডের আয়োজন করা হয়েছে। এতে দায়িত্ব ও কর্তব্য, করণীয় ও বর্জনীয়, শৃঙ্খলা, সতর্কতা, দর্শনার্থীদের সঙ্গে আচরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিটি পূজামণ্ডপে দুইজন আনসার-ভিডিপি সদস্যকে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপের এন্ড ইউজার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বা জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তারা অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তথ্য জানাবেন। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
তিনি বলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত পূজামণ্ডপগুলোতে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হবে।
কমান্ড্যান্ট মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ, স্ট্রাইকিং টিম, নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে সব সদস্যকে সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, জননিরাপত্তা এবং ধর্মীয় উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেছে বাহিনীটি।


