শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতার সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আরেফীন জুনাইদ। তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীটি প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে দেশের ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে পূজামণ্ডপগুলোর আয়োজকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসছে। তবে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির তথ্য নেই। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট প্রস্তুত রয়েছে।’ কেউ কোনো ধরনের অপতৎপরতার চেষ্টা করলে সুবিধা করতে পারবে না বলে আশা করেন তিনি।
দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে অস্থায়ী প্যান্ডেল তৈরির সময় বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি, অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড এবং রান্নার জায়গা থেকে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে। অতীতে বিভিন্ন উৎসবে ঘটে যাওয়া অগ্নিদুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করে এসব ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পূজামণ্ডপের আয়োজকদের সতর্ক করা হচ্ছে।
সুলতানুল আরেফীন জুনাইদ জানান, ফায়ার সার্ভিসের ৫৩৮টি স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপের কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা মণ্ডপ পরিদর্শন করে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করেছেন এবং দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাথমিকভাবে কীভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা পেতে হটলাইন নম্বরও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপে অগ্নিনিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ওই ব্যক্তি সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকবেন এবং কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে মণ্ডপের লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসকে জানাবেন। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমানো যাবে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও জনবল কৌশলগত স্থানে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। কিছু এলাকায় পূজামণ্ডপের আয়োজকদের অনুরোধে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও কর্মীদের অপেক্ষাকৃত কাছাকাছি অবস্থানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। অধিদপ্তরের সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমেও সমন্বয় ও জরুরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষ, পূজামণ্ডপের আয়োজক ও দর্শনার্থীদেরও সচেতন হতে হবে। ধূপ, প্রদীপ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো দুর্ঘটনার খবর দ্রুত জানানো গেলে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানমাল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারবে।


