সরকারের বাজেট বরাদ্দের পরও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধীরগতিতে চলছে, সেগুলোর অগ্রগতি অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ।
বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের ‘সবার উপরে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে অসহযোগিতা বা অবহেলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।
কমিটি রাষ্ট্র মেরামত ও সংস্কারের লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেয়।
বৈঠকে কমিটির সভাপতি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক বা বাস্তব কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে কমিটির সামনে তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রাসঙ্গিক নথি ও বাস্তব পরিস্থিতি উপস্থাপন করতে হবে, কোনো বিষয় গোপন করা যাবে না।
তিনি বলেন, নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিকদের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় করতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ভুলে যাবেন না যে, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী—কোনো দলের, ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর নন।’
তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে প্রচলিত ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সংসদীয় কমিটিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে সবার সম্মিলিতভাবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা উচিত।
বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
এ ছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করা হয় এবং আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।
বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, বিয়াম ফাউন্ডেশন, জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি (নাডা) এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), শাহজাহান চৌধুরী, মো. আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার রানু ও মো. নূরুল ইসলাম অংশ নেন।
এ সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


