জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা এবং নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, বিশ্বমান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সক্ষমতা, জনবল ও কার্যপরিধি পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
বুধবার ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে বিশ্বমান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, মান শুধু পণ্যের গুণগত বৈশিষ্ট্য নয়, এটি মানুষের মর্যাদা ও নিরাপদ জীবনযাপনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ভবন নির্মাণসামগ্রী থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য প্রতিটি পণ্যের মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ভোক্তারা অর্থ ব্যয় করে যে পণ্য কিনবেন, তার গুণগত মান সম্পর্কে তাদের আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ থাকতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যপণ্যের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিএসটিআইয়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা, হালাল সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক স্বীকৃতি অর্জনে বিএসটিআইকে আরও উদ্যোগী হতে হবে।’
বিএসটিআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির অধীনে বর্তমানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে বিএসটিআই কমপ্লেক্সে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ এবং সেখানে প্রায় ৬৩টি নতুন পরীক্ষাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে ১০টি জেলায় পরীক্ষাগার স্থাপন এবং প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেট্রোলজি ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বিশ্বমানের পরীক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে বিএসটিআইয়ের জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন এবং নিরাপদ জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
‘বাজারের সয়াবিন তেলে কোনো ভারী ধাতু নেই’
সয়াবিন তেলে ভারী ধাতু ও সিসার উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের বাজারে থাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় নমুনাগুলোতে কোনো ক্ষতিকর ধাতু বা লেড পাওয়া যায়নি। এটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাজারে যে সমস্ত সয়াবিন তেল আছে, সেগুলো সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। এর মধ্যে কোনো ক্ষতিকারক ভেজাল ধাতু বা লেড নেই। তিনি বলেন, পণ্যের মান নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ও তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক এসএম আব্দুল আওয়াল, এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) মহাপরিচালক মোহা. আমিনুল ইসলাম এবং বিএসটিআইয়ের পরিচালক মো. সাইদুল ইসলাম বক্তব্য দেন।


