নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ মেরামতের কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম। দক্ষ জনবল দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, মান নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে কাজ বন্ধ রাখতে হবে।
মঙ্গলবার সকালে কারখানার বিভিন্ন শপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। কারখানার ক্যারেজ শপ পরিদর্শনের সময় কোচের জানালার ফিনিশিং ও উপকরণের মান দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। কর্মকর্তাদের তদারকি ও কাজ বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ এই কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বিভিন্ন কারণে ব্যাহত হয়েছে। কারখানাটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে চায় সরকার। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’
সৈয়দপুর রেলওয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমি পৌরসভার দখলে রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। জমি নিয়ে রোক ও পৌরসভার বিরোধের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তথ্য সংগ্রহ শেষে জমিগুলো দখলমুক্ত করা হবে।
সৈয়দপুরের আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে ২ হাজার ৪০০টির মধ্যে প্রায় ৯০০টিতে লোক বসবাস করছেন। আবাসন সংকট না থাকলেও পুরোনো বাংলো ও কোয়ার্টারগুলো সংস্কার প্রয়োজন।’
পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি কোচ মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এগুলো চলাচলের উপযোগী করতে দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।
কারখানার সক্ষমতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আগে ১২ হাজার ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি হলেও এখন তা কমে ৬৫৪ থেকে ৬৫৫টিতে নেমেছে। ফলে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হচ্ছে। উদ্যোগ নিলে এগুলো দেশেই তৈরি সম্ভব। ১৮৬২ থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত কারখানাটির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।
রেলওয়ের নয়টি হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগে জটিলতা রয়েছে। হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার পরিকল্পনা চলছে।
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর পৌঁছান মন্ত্রী। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ সচিব ফাহিমুল ইসলাম ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। কারখানা পরিদর্শন শেষে তারা পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার উদ্দেশ্যে রওনা হন।


