দুর্গাপূজা উদযাপনে বিঘ্ন সৃষ্টি বা পূজামণ্ডপে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপির দূর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন।
অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধে যে-ই জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির দূর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে খোকন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অপরাধীর কোনো দল নাই। এই অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত হবে, বিশেষ করে এই পূজামণ্ডপে বা পূজা উদযাপনে যারা বিঘ্ন সৃষ্টি করবে, তাদের জন্য কঠিন ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে যেই হোক না কেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট বলেন বা অন্য কেউ বলেন, কেউ যদি এই ধরনের তৎপরতার চিন্তা করে থাকেন, তাদের আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি।’
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে বিএনপি দেশজুড়ে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করবে বলে জানান খোকন। জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত এসব কমিটিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হবে এবং দলের নেতারা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে খোকন বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া খবর ও ভিডিও ছড়ানোর বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। কোনো তথ্য বা ভিডিও যাচাই না করে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানান খোকন।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষণে দুর্গাপূজা নিয়ে বড় ধরনের কোনো উদ্বেগের তথ্য আসেনি। তবে অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা সতর্ক রয়েছেন।


