হুথিদের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সরাসরি যুক্ত করতে চায় সৌদি আরব। দেশটির নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও পরিকল্পনায় সহায়তা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালানো থেকে বিরত রয়েছে ওয়াশিংটন।
এপির খবরে বলা হয়, শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন তিনি।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। হুথিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তারা ‘খুব খারাপ আচরণ করছে’। তবে এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি।
সৌদি আরবকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আসবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘শিগগিরই জানতে পারবেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এ সংঘাত ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের ওই নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টি নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।
ইরান সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অসন্তোষ বাড়ছে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পৃক্ততা বাড়ালে ভোটারদের ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে হুথিরা ইয়েমেনের উপকূলবর্তী বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। এতে পারস্য উপসাগর থেকে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইরানের ওই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ইতোমধ্যে জটিল হয়ে উঠেছে।
গত মাসে বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখলে নেয় হুথিরা। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক বাহিনীগুলোকে সহায়তা দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এলাকাগুলো পুনর্দখলের চেষ্টা করছ।।
অন্যদিকে, ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মধ্যে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে ‘সবচেয়ে দুর্বল পক্ষ’ হিসেবে বিবেচনা করে ভুল করেছে তেহরান ও তার মিত্ররা। এ সংঘাতে ইরান ও তাদের মিত্ররা উপসাগরের অপর পাড়ের আরব দেশগুলোতে বারবার হামলা চালিয়েছে।
গারগাশ লেখেন, ‘এখন স্পষ্ট যে আমরা সবাই লক্ষ্যবস্তু এবং আমাদের নিরাপত্তা অবিভাজ্য।’
অন্যদিকে, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা সহজ করতে ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
বাঘাই জানান, পরিস্থিতি নিয়ে রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।


