আবুধাবি টেস্টে চতুর্থ দিন শেষে চালকের আসনে আছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানকে জিততে হলে পঞ্চম দিনে করতে হবে ৩৪৭ রান। বাংলাদেশের প্রয়োজন ৭ উইকেট।
সোমবার বাংলাদেশ ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দেয়। এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান সংগ্রহ করে আফগান ব্যাটাররা।
আফগানিস্তানের রান তাড়ার শুরুতেই আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসার এবাদত হোসেন। ইনিংসের প্রথম বলেই আবদুল মালিককে উইকেটকিপার লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ৫০তম উইকেট পূর্ণ করেন এবাদত।
এরপর উইকেটশিকারে যোগ দেন আরেক পেসার হাসান মাহমুদ। তার বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটনের হাতে ক্যাচ দেন শাহিদউল্লাহ। ১৯ বলে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি। এতে ২৮ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
এরপর রহমত শাহ ও সেদিকউল্লাহ আতাল ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের ৮২ রানের জুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন। রহমত শাহ ১৪২ বলে ৫১ রান করে এবাদতের বলে আউট হন। পরে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে দিন শেষ করে আফগানিস্তান। সেদিকউল্লাহ আতাল ৩৫ এবং হাশমতুল্লাহ শাহিদী ১৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
এর আগে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ৭ উইকেটে ৩৭২ রানে। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড থাকায় সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন লিটন দাস। তিনি ১০২ রান করে সেলিমের বলে আউট হওয়ার পরপরই ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক।
এ ছাড়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮২ রান, মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ৮১ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত থাকেন ৫২ রানে। আফগানিস্তানের হয়ে সেলিম ও জিয়াউর রহমান নেন দুটি করে উইকেট।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে ২৪০ রানে অলআউট হয়েছিল আফগানিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ নেন পাঁচ উইকেট এবং এবাদত হোসেন শিকার করেন চার উইকেট। হাসানের হ্যাটট্রিক ছিল ইনিংসটির অন্যতম আকর্ষণ। এটি টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো পেস বোলারের প্রথম হ্যাটট্রিক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৩৪৬ ও ৩৭২/৭ ডিক্লে. (লিটন ১০২, নাজমুল ৮২, মুশফিক ৮১, মিরাজ ৫২*; সেলিম ২/৬৯, জিয়াউর ২/৮৬)।
আফগানিস্তান: ২৪০ ও ১৩২/৩ (রহমত শাহ ৫১, সেদিকউল্লাহ আতাল ৩৫* ; এবাদত ২/৩২, হাসান মাহমুদ ১/৩১।


