চাঁদপুরে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: ২৩২ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ

চাঁদপুরে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: ২৩২ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

শরতের হিমেল হাওয়া ও শিউলির সুবাসে প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। চাঁদপুরের ২৩২টি পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলায় ২৩২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে ৪১, ফরিদগঞ্জে ২৩, হাইমচরে ৬, হাজীগঞ্জে ২৯, মতলব দক্ষিণে ৩৯, মতলব উত্তরে ৩৬, কচুয়ায় ৩৯ এবং শাহরাস্তিতে ১৯টি মণ্ডপ রয়েছে। এসব মণ্ডপে হাজারো কারিগর দিনরাত কাজ করছেন।

কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে প্যান্ডেল, প্রতিমা ও আলপনার কাজ চলছে। সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে দুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও লক্ষ্মীকে। মাটি ও খড় দিয়ে প্রতিমা তৈরির পর চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। বিভিন্ন থিমে মন্দির সাজানোর পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও গুণীজনদের ছবি টানানো হয়েছে।

ছবি: টাইমস

প্রতিমাশিল্পী জগবন্ধু পাল বলেন, তিনি ১২টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। পাট ও মাটির দাম বাড়ায় তার লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
কালীমন্দিরের আয়োজক প্রভাষ সাহা জানান, গত দুই মাস ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। পূজার পাঁচ দিন ভক্তদের মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা থাকবে। এ বছর চার থেকে পাঁচ লাখ দর্শনার্থীর আগমন প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।

জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিনয় ভূষণ মজুমদার ও সদস্য সচিব অজিত সাহা জানান, আট উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন

পূজা নির্বিঘ্নে করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসন প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে। পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, সবার সহযোগিতায় পূজা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে। মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে এবং গুজব রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, সব মণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়াতে হবে যাতে অপপ্রচার না ছড়ায়। পৌরসভাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। পূজামণ্ডপের আশপাশে কোনো মেলা বসতে দেওয়া হবে না এবং কিশোর গ্যাংয়ের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে ছয় দিনের দুর্গোৎসব শুরু হবে। ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে দলীয় নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। দলীয় প্রধান তারেক রহমানেরও এমন নির্দেশনা রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad