চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যে চুক্তি হয়েছে, সেই চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা পুরোপুরি অমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনে শারদীয় দুর্গাপূজা বিষয়ে মতবিনিময় ও অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘চট্রগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, এটি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য হয়েছে। এছাড়া এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়েছে। এরপরে সেই চুক্তি বাংলাদেশ চাইলে নবায়ন হবে অথবা সেখানেই সেই চুক্তির যবনিকাপাত করবে। এই চুক্তিকে দেশ বিক্রির চুক্তি যারা বলছেন, সেটি সস্তা, অমূলক একটা কথা।’
মন্ত্রী বলেন, এই চুক্তির কারণে বন্দরের কেউ চাকরিচ্যুত হবেন না। পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের পারিশ্রমিকও বৃদ্ধি পাবে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থান পুনরুদ্ধার হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ কে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির সমালোচনা করছেন অনেকেই।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বাইরের বিনিয়োগ বা আমাদের দেশীয় বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে হলে পণ্যের উৎপাদন খরচ এবং রপ্তানি খরচ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে আসতে হবে।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে যারা বন্দরে কাজ করছে তাদের কারও কর্মচ্যুতি ঘটবে না। আজকে যে বেতনে কাজ পাচ্ছেন আগামী দিনে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির কারণে তাদের প্রত্যেকের এই বেনিফিটটা বাড়বে। মানে আজকে যে পারিশ্রমিক পান সেটির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের অবস্থান অবনমন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বরাবরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে প্রধানতম পোশাক রপ্তানিকারী। চীন তাদেরর অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু ভিয়েতনামের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড থাকায় ভিয়েতনাম আগেও হয়েছে কখনো কখনো পোশাক রপ্তানিতে কখনো বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গিয়েছে আবার বাংলাদেশ সেই স্থান দখল করেছে।


