যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধে তেহরানকে সহায়তা করতে মস্কো ‘সবকিছু’ করবে বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বৃহস্পতিবার তুর্কমেনিস্তানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটসের (সিআইএস) শীর্ষ সম্মেলনের আগে দুই নেতার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশ নিয়ে গঠিত এ জোটের সম্মেলনে যোগ দিতে তারা তুর্কমেনিস্তানে রয়েছেন।
রুশ সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে পুতিন পেজেশকিয়ানকে বলেন, ‘আপনারা আমাদের অবস্থান জানেন। এই পরিস্থিতির সমাধানে আপনাদের সহায়তা করতে আমরা আমাদের সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করতে প্রস্তুত।’
রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাতে পুতিন আরও বলেন, ইরান সংঘাতের অবসান ঘটাতে তারা আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তার ভাষায়, ইরানের কোনো দোষ ছাড়াই এ সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে।
ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন পুতিন।
এর আগে বুধবার এক ফোনালাপে পেজেশকিয়ানকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতা করতে মস্কোর প্রস্তুতির কথা জানান পুতিন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।
গত মাসে কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকেও দুই নেতা বৈঠক করেন।
পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়া ও ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। গত বছর দেশ দুটি একটি ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এতে বাণিজ্য, সামরিক সহযোগিতা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার জন্য রাশিয়া তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দুই পক্ষই হামলা জোরদার করছে।


