আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধের নির্দেশ নতুন উপাচার্যের

আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধের নির্দেশ নতুন উপাচার্যের
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখাকে উপাচার্যের অনুমোদন ছাড়াই বেতন-ভাতার কাগজপত্র ব্যাংকে পাঠানোর অভিযোগে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংক পিএলসির চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেন উপাচার্য। চিঠির বিষয় ছিল, ‘সেপ্টেম্বর ২০২৬’ মাসের বেতন-ভাতা বিতরণের অননুমোদিত দাখিল সংক্রান্ত বিধিবদ্ধ নোটিশ ও নির্দেশনা।

চিঠিতে বলা হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার (অর্থ ও হিসাবসংক্রান্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা) কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক বেতন-ভাতা বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত না হয়ে প্রশাসনিক নির্দেশনা এড়িয়ে যান।

এরপর কম্পট্রোলার কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তা উপাচার্যের বাধ্যতামূলক পূর্বানুমোদন না নিয়েই সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতার বিল ব্যাংকে পাঠান বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বিষয়টিকে ‘অননুমোদিত ও বেআইনি দাখিল’ হিসেবে উল্লেখ করে এতে চুয়েট আইনের নির্দিষ্ট ধারার কথা তুলে ধরা হয়েছে। উপাচার্যের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের আর্থিক লেনদেন আইনত গ্রহণযোগ্য নয় বলেও চিঠিতে দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখাকে কোনো ধরনের অনুমোদনবিহীন কাগজপত্রের ভিত্তিতে অর্থ ছাড় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে অর্থ ছাড় করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়ী করা হবে বলেও চিঠিতে সতর্ক করা হয়।

আরও পড়ুন

তবে এর আগে ৫ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা থেকে উপাচার্যকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, সেপ্টেম্বর মাসের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের জন্য বেতন শিট ও চেক ব্যাংকে পৌঁছেছে। এসব বেতন শিট ও চেকে চুয়েটের কম্পট্রোলার ও ডেপুটি কম্পট্রোলারের সই রয়েছে বলেও ব্যাংকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, বেতন না পাওয়ার বিষয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক সামিউন বাসির টাইমসকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে ৬ অক্টোবর হয়ে গেলেও আমাদের অ্যাকাউন্টে এখনো টাকা আসেনি। আমাদের প্রক্রিয়া (প্রসিডিউর) ক্লিয়ার করা আছে। যতটুকু শুনেছি, নতুন উপাচার্য ব্যাংকের ম্যানেজারকে বেতন-ভাতা বিতরণ না করার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না।’

এ বিষয়ে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে আমার ২৭ বছরের চাকরিজীবনে এমন ঘটনা কখনো দেখিনি। সাধারণত মাসের ১ বা ২ তারিখের মধ্যেই আমাদের অ্যাকাউন্টে বেতন আসে। কিন্ত ৬ অক্টোবর হয়ে গেলেও এখনো অ্যাকাউন্টে বেতন আসেনি।’

এদিকে, সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

বেতন-ভাতা বিতরণ নিয়ে নতুন নির্দেশনার ফলে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন পাওয়া নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad