প্রেমিকের মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাথরুমে ঢুকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক নার্স।
মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে তার মরদেহ শনাক্ত করেন স্বজনরা।
নিহতের নাম তন্ময়ী মন্ডল (২৮)। তিনি রাজধানীর শাহবাগের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নার্স ছিলেন।
তন্ময়ী মন্ডলের ছোট বোন তন্দ্রা মন্ডল জানান, তাদের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝড়া উপজেলার ঐচার মাঠ গ্রামে। বাবার নাম মৃত বিভূত মন্ডল। দুই বোনের মধ্যে তন্ময়ী ছিলেন বড়। তন্ময়ী ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নার্স। থাকতেন আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালের হোস্টেলে।
তিনি জানান, তন্ময়ী গত এক বছর ধরে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মাখন মিত্রের ছেলে আকাশ মিত্রের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। বিবাহিত আকাশ ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে থাকতেন। তন্ময়ী আকাশের বিয়ের বিষয়টি জানতেন। আকাশ তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেবেন বলে তাকে বলেছিলেন। আকাশের সংসারে অশান্তি লেগে ছিল।
তিনি বলেন, ‘আকাশ আমার বোনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তার (তন্ময়ী) কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়েছেন। তন্ময়ী সেই টাকা মানুষের কাছ থেকে ধার করে এনেছিলেন।’
তন্দ্রা আরও বলেন, ‘রোববার বিকালে তন্ময়ী আমাকে ফোনে বলেছিলেন, আকাশ কেরানীগঞ্জের বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার মরদেহ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। রোববার বিকাল থেকে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে তন্ময়ী ঘোরাঘুরি করছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘সোমবার দুপুরে আমরা খবর পাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাথরুম থেকে তন্ময়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আকাশকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছিল আমার বোন। আকাশের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি। সেই কারণে তন্ময়ী ঢাকা মেডিকেলের বাথরুমে আত্মহত্যা করেছেন বলে আমাদের ধারণা।’
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সকালে ঢাকা মেডিকেলের ক্যাম্প পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে একটি বাথরুম থেকে ওই তরুনীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার বাম হাতের কবজিতে কাটা দাগ ছিল।
তিনি জানান, মরদেহের পাশে একটি ব্যাগ পাওয়া যায়। সেখান থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটে লেখা ছিল ‘তুমি পৃথিবীতে নাই, আমিও বাঁচব না।’
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক একেএম ফরহাদ হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। সিসিটিভির ফুটেজ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে কারণ জানা যাবে।
তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুজেটে তাকে হাসপাতালের ভেতরে কিছুটা হাটাহাটি করতে দেখা গেছে। তার সঙ্গে কেউ ছিল না। তবে বাথরুমে যাওয়া পর্যন্তই তাকে দেখা গেছে।


