সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী।
স্থানীয় সময় শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, অভিযানটি ‘সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করেছে’। হামলার পর লক্ষ্যবস্তুতে আগুন ধরে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
ইয়াহিয়া সারি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সানা ও ইয়েমেনের অন্যান্য প্রদেশে ৬০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে দেশটিতে সৌদি হামলার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২০টিতে। এসব হামলার জন্য তিনি সৌদি আরবকে দায়ী করেন।
হুথিদের এই মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘অবরোধের জবাব অবরোধ দিয়ে এবং হামলার জবাব হামলা করেই দেওয়া হবে।’
তবে ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি রিয়াদে হামলার বিষয়ে হুথিদের দাবি ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। সৌদি গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তুর্কি আল-মালিকি বলেন, হুথিরা নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষ থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংস ডেকে আনা বিদেশি স্বার্থের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বিষয়টিও আড়াল করতে চাইছে তারা।
২০১৫ সালের মার্চ থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে একটি সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। জোটটি হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও আরও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। তাদের দাবি, ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে সৌদি নৌ ও বিমান অবরোধের জবাব হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এরপর থেকে ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে।


