ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণিত, নড়াইলে প্রেসক্লাব সদস্য বহিষ্কার

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণিত, নড়াইলে প্রেসক্লাব সদস্য বহিষ্কার
বহিষ্কৃত সাংবাদিক এনামুল কবীর টুকু। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য এনামুল কবীর টুকুর মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল হওয়ায় তাকে প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সভায় সদস্যদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়ার অভিযোগে এনামুল কবীর টুকুর মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) তার সনদ বাতিল করে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইল প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-৯, ধারা-১-এর (ক) উপধারা অনুযায়ী নৈতিক স্খলন, দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, ক্লাবের গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, অর্থ অপচয় বা আত্মসাৎ এবং পেশাগত মর্যাদাহানিকর কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাধারণ সভায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এসব তথ্য জানিয়েছেন নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এস. এম. আব্দুল হক।

উল্লেখ্য, নড়াইলের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এনামুল কবির টুকুর মুক্তিযোদ্ধার গেজেট (গেজেট নাম্বার ২৬৪) বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

গত ২৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হরিদাস ঠাকুরের সই করা প্রজ্ঞাপনে টুকুর গেজেট বাতিল করা হয়।

আরও পড়ুন

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে টুকু বর্তমানে নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে এলাকায় বসবাস করেন।

মুক্তিযোদ্ধা তবিবর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি নড়াইলের যত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে তাদের গেজেট বাতিল করা হোক। অবশেষে টুকুসহ নড়াইলে চারজনের গেজেট বাতিল হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে সরকারকে অভিনন্দন জানাই। আমরা পরবর্তীতে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে বাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল করতে চেষ্টা করব।’

এ বিষয়ে নড়াইলের বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নেওয়াজ মাহমুদ ভিকু বলেন, ‘আমি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এনামুল কবির টুকুর বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে আসছি। পাঁচ বছর পরে সাফল্য এসেছে। শুধু টুকু না সব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাব।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুশীল সমাজের একাধিক ব্যক্তি জানান, এনামুল কবির টুকু সাংবাদিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে মিথ্যা তথ্য ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধা বনে যান। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক সাইনবোর্ড লাগিয়ে এবং নড়াইল প্রেসক্লাবের কর্তাব্যক্তি পরিচয় দিয়ে (সভাপতি ও সেক্রেটারি) বিভিন্ন অফিস গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাসোয়ারা আদায় করতেন। জেলা প্রশাসকের মিটিংয়ে গিয়ে বিসিএস কর্মকর্তাদের হুমকি ধামকি দিতেন।

সাংবাদিক ও তরুণ লেখক মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই কুখ্যাত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল হোক। আজ সে দাবি পূরণ হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টুকুর এক আত্মীয়ের দাবি, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাট পেয়ে সেটি ৭০ লাখ টাকা বিক্রি করে দিয়ে সরকারি টাকা হাতিয়ে নেন টুকু।

মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে এনামুল কবির টুকু বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আদালতে যাব।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এনামুল কবির টুকু মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ হওয়ায় যাচাই-বাছাই করে তদন্ত করে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ তার মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad