মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী জীবনের গল্প নিয়ে মঞ্চস্থ হলো ‘যশোর রোড’

মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী জীবনের গল্প নিয়ে মঞ্চস্থ হলো ‘যশোর রোড’
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের দুর্ভোগ, যুদ্ধের প্রভাব ও সৃষ্ট মানবিক সংকট মঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে মিউজিক্যাল থিয়েটার প্রযোজনা ‘যশোর রোড’-এ।

আমেরিকান কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ অবলম্বনে প্রযোজনাটি মঞ্চস্থ করে নরসিংদীর নাট্যদল বন্ধনহারা।

শুক্রবার ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে এটি মঞ্চস্থ হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ‘২৭ ধানমন্ডি গাই বাংলার গান পর্ষদ’।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশ ছেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে শরণার্থী হওয়া মানুষের জীবন ও দুর্ভোগ ছিল অনুষ্ঠানের মূল বিষয়। আয়োজক সংগঠনের ফজলুল কবির তুহিনের সূচনা বক্তব্য ও স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

তুহিন বলেন, ১৯৭১ সালে তৎকালীন মার্কিন সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করলেও দেশটির জনগণ বাংলাদেশের পাশে ছিল। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি গিন্সবার্গের ‘যশোর রোড’ কবিতা ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত কনসার্ট ফর বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করেন। প্রযোজনাটি মঞ্চস্থ করায় বন্ধনহারাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শরণার্থী শিবিরের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি তুলে ধরেন মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও সত্যজিৎ মজুমদার।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সরওয়ার আলী ও সাবেক ডাকসু সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জামান।

অ্যালেন গিন্সবার্গের ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’-এর ইংরেজি সংস্করণ আবৃত্তি করেন বেলায়েত হোসেন। এরপর কবিতাটির বাংলা অনুবাদ আবৃত্তি করেন রেজিনা ওয়ালী লিনা।

আবিদা সুলতানা সেতু পরিবেশন করেন ‘ও আমার দেশের মাটি’। আমন্ত্রিত এক শিল্পী পরিবেশন করেন ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’।

বিরতির পর সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ ৩৫ মিনিটের মিউজিক্যাল থিয়েটার ‘যশোর রোড’ মঞ্চস্থ হয়। কামরুজ্জামান তাপুর নির্দেশনায় প্রযোজনাটি পরিবেশিত হয়।

৯০ মিনিটের পুরো আয়োজনে ছিল আলোচনা, ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ, কবিতা, দেশাত্মবোধক গান ও মিউজিক্যাল থিয়েটার। এসব পরিবেশনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের জীবন, দুর্ভোগ ও মানবিক বাস্তবতা তুলে ধরা হয়।

আয়োজকেরা জানান, আনুষ্ঠানিক স্মরণ অনুষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে কবিতা, সংগীত ও নাটকের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরাই ছিল আয়োজনের লক্ষ্য।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad