ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে ক্যাপ্টেন আহত হওয়ার পর সেটি বিধ্বস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে টেলিভিশনে বিমান দুর্ঘটনার অনুষ্ঠান দেখে পাওয়া ধারণা কাজে লাগিয়ে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন এক যাত্রী।
তার সঙ্গে আরও কয়েকজন যাত্রীর সাহসী উদ্যোগে প্রাণে বেঁচে যান ১৭০ জনের বেশি আরোহী।
ওই যাত্রীর নাম ইয়ানিভ হায়ুন। ৫০ বছর বয়সী এই ইসরায়েলি নাগরিককে এখন দেশে বীর হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আরও তিন ইসরায়েলি যাত্রী মিলে হামলাকারী সহ-পাইলটকে কাবু করেন।
রয়টার্সের খবরে জানা যায়, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন হায়ুন। তিনি একটি পয়োনিষ্কাশন প্রতিষ্ঠানের মালিক।
সৌদি আরব থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দেন হায়ুন। তিনি বলেন, এক নারী ‘ছুরি মেরেছে’ বলে চিৎকার করার পরই তারা হামলার বিষয়টি বুঝতে পারেন। একই সময়ে উড়োজাহাজটি কেঁপে ওঠে।
এরপর তিনি ককপিটের দিকে ছুটে যান এবং দেখতে পান, পাইলট আহত হওয়ায় বিমানটির নাক নিচের দিকে নেমে যাচ্ছিল। তখন তারা স্টিয়ারিং টেনে উড়োজাহাজটিকে সোজা করতে সহায়তা করেন। পরে উড়োজাহাজের অন্য একজন ক্রু সদস্য সেটিকে নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিমানবন্দরে হায়ুনের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় হায়ুন তাকে বলেন, আহত পাইলট সম্ভবত অচেতন হয়ে পড়ার আগে ককপিটের দরজা খুলতে পেরেছিলেন।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে হায়ুনকে বলতে শোনা যায়, ‘একজন পাইলট পড়ে ছিলেন, আরেকজন স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন। আমার সঙ্গে আরেকজন ভেতরে ঢোকেন। আমি হামলাকারীকে গলায় ফাঁসের মতো করে চেপে ধরি এবং তাকে টেনে বাইরে নিয়ে আসি।’
হায়ুন জানান, কয়েকজন মিলে পাইলটকে কাবু করার পর তিনি আবার বিমানের স্টিয়ারিংয়ের কাছে ফিরে যান। তখন সেটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো কেউ সেখানে ছিলেন না। হামলাকারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির কারণে তখনো তার শার্টে রক্তের দাগ ছিল।
কীভাবে এমন পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজ সামাল দিতে হয়, তা জানতে চাইলে হায়ুন বলেন, ‘আমি এয়ার ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন দেখি, মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার।’
হামলাকারীকে কাবু করতে সহায়তাকারীদের মধ্যে ছিলেন ইসরায়েলি ব্যাংক কর্মকর্তা তসভিকা মানেস। তিনি জানান, হামলাকারীকে বেঁধে রাখতে তারা উড়োজাহাজের যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া ইয়ারফোন ব্যবহার করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ হায়ুন, মানেস ও তার স্ত্রী তালিকে বেসামরিক বীরত্বের জন্য প্রেসিডেনশিয়াল অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা দেন। তালিই প্রথম ককপিটে সহিংসতার ঘটনা যাত্রীদের জানান।
এ ছাড়া আহত ক্যাপ্টেনের চিকিৎসা দেওয়া শোতা মুসায়েভকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরেক যাত্রী আসাফ রাজুয়ানের সঙ্গে মিলে হামলাকারীকে কাবু করতেও সহায়তা করেন। রাজুয়ানকেও পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে রাজুয়ান বলেন, ‘আমি কোনো নায়ক নই। মেয়ের, স্ত্রীর, পরিবারের এবং বিমানের কর্মীসহ অন্য সবার জীবন বাঁচাতে ছুটে যাওয়া এমন কিছু, যা না ভেবেই করে ফেলতে হয়। তখন ভাবার সময় থাকে না, শুধু কাজ করতে হয়।’
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলার মধ্যেই উড়োজাহাজের যাত্রীদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ এবং আহত পাইলটকে সহায়তার বিষয়টি সামনে এসেছে। সংকটের মুহূর্তে হায়ুনের টেলিভিশনে দেখা অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া ধারণা কীভাবে কাজে লেগেছিল, সেটিও এখন আলোচনায়।


