সৌদি আরবের মদিনায় একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার পেছনে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ওই কেন্দ্র থেকেই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র স্থান মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
তবে হুথি সংশ্লিষ্ট এক সামরিক সূত্রের বরাতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির পরিচালিত সাবা বার্তা সংস্থা এই সব দাবি অস্বীকার করেছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সৌদি জোট বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, হামলায় একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেলেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়েনি।
এদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে থাকা সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, জোট বাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানায় কয়েকটি ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সৌদি-হুথি সাম্প্রতিক এই উত্তেজনাকে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে গুরুতর সংঘর্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে ফের হামলা শুরু করে হুথি বিদ্রোহীরা।
গত জুলাইয়ে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং সৌদি ভূখণ্ড ও জাহাজে হামলা শুরু করে। একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে দখল নিয়ে হুথি বাহিনী বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করে। ইরানি বাধায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি রপ্তানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত লোহিত সাগর ঘিরে সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা জোরদার করে হুথিরা।
জবাবে ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে হুথিদের প্রতিহত করতে লড়াইরত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে রিয়াদ।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মঙ্গলবার মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে চালানো হামলার তদন্ত এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নেহুথিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকেহুথিদের সামরিক সূত্রটি সৌদি জোটের অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি করেছে। বার্তা সংস্থা সাবার খবরে বলা হয়, এর আগে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে সৌদি আরব যে অভিযোগ করেছিল, তার পক্ষে প্রমাণ হাজির করতে না পারার বিষয়টি আড়াল করতেই মদিনায় হামলার পেছনে হুথিদের দায়ী করে নতুন এ দাবি করা হয়েছে।
দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। ড্রোনটি শহরের সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটিকে প্রতিহত করা হয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ওই ঘটনাকে ২০১৭ সালের পর মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছিল। তবে হুথিরা মক্কা কিংবা ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কোনো পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জোটের দাবি, মদিনার সর্বশেষ হামলাটিও মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করার ধারাবাহিক হুথি প্রচেষ্টার অংশ। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ‘উসকে দেওয়ার’ চেষ্টা করছে হুথিরা। পবিত্র স্থান ও হজযাত্রীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে জোট।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আরও জানিয়েছে,হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলীয় সৌদি শহর খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে স্থানীয় কর্মকর্তারা শুক্রবার ভোরে জানিয়েছেন,হুথিরা কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এডেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তরেও হামলা চালিয়েছে।


