দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাই দুবাইয়ের একটি বিমানের এক পাইলট অপর পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন।
বুধবারের এ ঘটনায় বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি হঠাৎ দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ায় সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ইসরায়েল যুদ্ধবিমান পাঠায়। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
বিমানকর্মীদের মাধ্যমে উড়োজাহাজ ছিনতাই বা তা বিধ্বস্ত করার চেষ্টার নজির অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও পাইলট বা ক্রু সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে।
২২ অক্টোবর ২০২৩
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের এভারেট থেকে সান ফ্রান্সিসকোগামী হরাইজন এয়ারের একটি উড়োজাহাজে অতিরিক্ত আসনে বসা আলাস্কা এয়ারলাইন্সের এক অফ-ডিউটি পাইলট ইঞ্জিন বন্ধ করার চেষ্টা করেন। উড়োজাহাজটি পরে পোর্টল্যান্ডে জরুরি অবতরণ করে। জোসেফ এমারসন পুলিশকে জানিয়েছিলেন, বন্ধুর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন, সাইকেডেলিক মাশরুম গ্রহণ করেছিলেন এবং কয়েক দিন ঘুমাননি।
২১ মার্চ ২০২২
দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কুনমিং থেকে গুয়াংজু যাওয়ার পথে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়ে ১৩২ আরোহীর সবাই নিহত হন। চীনা কর্তৃপক্ষ এখনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তবে মার্কিন তদন্তকারীদের প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির ইঞ্জিন ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করা হয়ে থাকতে পারে এবং ককপিটে পাইলটদের মধ্যে ধস্তাধস্তির পর বিমানটি নিচে আছড়ে পড়ে।
২৪ মার্চ ২০১৫
বার্সেলোনা থেকে জার্মানির ডুসেলডর্ফগামী জার্মানউইংসের একটি উড়োজাহাজের সহকারী পাইলট ককপিটে মূল পাইলটকে ঢুকতে না দিয়ে ফ্রান্সের আল্পস পর্বতমালায় বিমানটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত করেন। এতে ১৫০ জন নিহত হন। সহকারী পাইলট আন্দ্রেয়াস লুবিৎজের বিষণ্নতা, অনিদ্রা ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের আদ্দিস আবাবা থেকে মিলানগামী একটি ফ্লাইটের সহকারী পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে জেনেভার দিকে ঘুরিয়ে দেন। পরে হাইলেমেদহিন আবেরা তেগেগন স্থানীয় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে রাজনৈতিক আশ্রয় চান। ওই ঘটনায় ১৯৩ যাত্রীর কেউ আহত হননি।
২৯ নভেম্বর ২০১৩
মোজাম্বিক এয়ারলাইন্সের দক্ষিণ আফ্রিকার দেশটি থেকে অ্যাঙ্গোলাগামী একটি উড়োজাহাজ নামিবিয়ার একটি জাতীয় উদ্যানে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৩৩ জনই নিহত হন। কর্তৃপক্ষের দাবি, সহকারী পাইলট টয়লেটে যাওয়ার পর মূল পাইলট হারমিনিও দস সান্তোস ফার্নান্দেস ককপিটের দরজা বন্ধ করে বিমানটিকে মাটির দিকে নামিয়ে দেন।
৩১ অক্টোবর ১৯৯৯
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে কায়রোগামী ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট ম্যাসাচুসেটসের ন্যানটাকেটের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়ে ২১৭ জন নিহত হন। মার্কিন তদন্তকারীরা বলেছিলেন, সহকারী পাইলট গামিল আল-বাতুতি বিমানটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার পথে নিয়ে যান। তবে মিসরের তদন্তে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে যান্ত্রিক ত্রুটিকে দুর্ঘটনার কারণ বলা হয়।
১৯ ডিসেম্বর ১৯৯৭
জাকার্তা থেকে সিঙ্গাপুরগামী সিল্কএয়ারের একটি উড়োজাহাজ ইন্দোনেশিয়ার পালেমবাংয়ের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে ১০৪ জন নিহত হন। ইন্দোনেশিয়ার তদন্তকারীরা খারাপ আবহাওয়া না থাকা সত্ত্বেও ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তদন্তে পাইলট সু ওয়েই মিংয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার আর্থিক সমস্যা ও কোম্পানির শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
২১ আগস্ট ১৯৯৪
মরক্কোর আগাদির থেকে কাসাব্লাঙ্কাগামী রয়্যাল এয়ার মারকের একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়নের ১০ মিনিট পর অ্যাটলাস পর্বতমালায় বিধ্বস্ত হয়। এতে ৪৪ জন নিহত হন। তদন্তকারীদের মতে, পাইলট ইউনেস খায়াতি অটোপাইলট বন্ধ করে বিমানটি মাটির দিকে নিয়ে যান। তবে পাইলটদের একটি ইউনিয়ন তদন্তের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।
৭ এপ্রিল ১৯৯৪
যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিস থেকে সান হোসেগামী ফেডএক্সের একটি কার্গো বিমানে অতিরিক্ত আসনে থাকা অফ-ডিউটি ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার অবার্ন ক্যালোওয়ে উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। হাতুড়ি ও বর্শাবন্দুক নিয়ে তিনি ককপিটে থাকা ক্রুদের ওপর হামলা চালান। পরে ক্রুরা তাকে কাবু করে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান। তদন্তকারীদের মতে, ক্যালোওয়ের উদ্দেশ্য ছিল বিমানটি বিধ্বস্ত করা।
৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২
ফুকুওকা থেকে টোকিওগামী জাপান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান টোকিও উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়ে ২৪ জন নিহত হন। তদন্তে বলা হয়, অবতরণের সময় ককপিটে ধস্তাধস্তির মধ্যে পাইলট সেইজি কাটাগিরি ইঞ্জিনে রিভার্স থ্রাস্ট প্রয়োগ করেন। পরে জানা যায়, তার মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও তাকে উড্ডয়নের জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।
সূত্র: এপি


