শি জিনপিংয়ের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প

শি জিনপিংয়ের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-শি বৈঠকে প্রায় একই ধরনের পোশাকে দেখা যায় দুই নেতাকে। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে শিয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরে এই প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন চীনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ।

স্থানীয় সময় রোববার সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পারডিউ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈঠকে বারবার বলেন, আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি। একপর্যায়ে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে জিজ্ঞাসাও করেছিলেন, তিনি কিছু অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না।’

যুক্তরাষ্ট্রের তাইওয়ান নীতির বিষয়ে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে পারডিউ এ কথা বলেন। তাইওয়ান কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একটি বড় অস্ত্র চুক্তি ঘোষণা করেছিল। এরপর নতুন ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।

তাইওয়ানকে রক্ষায় ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির গভীরতা নিয়ে এর আগে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। গত মে মাসে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, চীনের সঙ্গে আলোচনায় ওই ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজকে তিনি ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। কাজেই একদিকে তাইওয়ানকে সমর্থন ও অন্যদিকে চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রত্যাশা, ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

তাইওয়ান আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে দেশটির পাশে দাঁড়াবে কি না—এ বিষয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত অস্পষ্ট অবস্থান বজায় রেখেছে। তবে কয়েক দশক পুরোনো তাইওয়ান সম্পর্ক আইন অনুযায়ী, তাইপেকে আত্মরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

আরও পড়ুন

বিপরীতে চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে আসছে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে, যদিও দ্বীপটি কখনো চীনের শাসনের অধীনে ছিল না। তাইওয়ান দখলে শক্তি প্রয়োগের পথও চীন বাদ দেয়নি।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা’ করার আহ্বান জানান।

এদিকে পারডিউয়ের সাক্ষাৎকারের পর হোয়াইট হাউস নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন আইন চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে এবং চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো প্রস্তাব বা পরিকল্পনা নেই।

তাইওয়ানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চি ওই সাক্ষাৎকারের আগে সাংবাদিকদের বলেন, তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের সামরিক হুমকি অত্যন্ত গুরুতর। তাইপেতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তাইওয়ান প্রণালিতে আমরা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। চীনের অর্থনীতি দুর্বল হলেও দেশটি সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে আরও বেশি সম্পদ বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের প্রতিরক্ষা চাহিদা ভালোভাবেই বুঝতে পারছে।’

গত সপ্তাহে শিয়ের সঙ্গে ওই বৈঠকের পর ট্রাম্প আর অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গ তোলেননি। শনিবার তিনি শুধু বলেন, তাইওয়ান বিষয়ে তার অবস্থান শি জিনপিং বুঝতে পেরেছেন।

তবে পারডিউ নিজেই গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, অস্ত্র বিক্রিসহ তাইওয়ান নীতিতে ট্রাম্পের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

 

আরও পড়ুন>>>

বছর শেষের আগেই ট্রাম্পের সঙ্গে আরও ২ বৈঠক করবেন শি জিনপিং

ট্রাম্প দেখাচ্ছেন ‘গভীর সখ্য’, শি জিনপিং হাঁটছেন মেপে

শি জিনপিংয়ের জন্য ট্রাম্পের যত আয়োজন

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad