সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে যুবলীগ নেতা নিখিলের ভাই

সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে যুবলীগ নেতা নিখিলের ভাই
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসম্পাদক মোতাহার হোসেন খান সুফলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই।

শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদের আদালতে এ আদেশ দেন। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামী পক্ষের আইনজীবী শামীম আল সাইফুল সোহাগ।

এ মামলায় আবু জাফর মোল্লা নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দুই আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আবেদনে বলা হয়ে, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচে টেকনিক্যালগামী অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বাসটির পেছনের কয়েকটি সিট, ফ্যানসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।

ওই সময় বাসে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী দ্রুত নেমে নিজেদের জীবন রক্ষা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে দারুসসালাম ও শাহআলী মাজারের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে অগ্নিসংযোগের শিকার বাসটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুফলের হুকুম ও প্ররোচনা এবং অন্য আসামিদের যোগসাজশের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কেউ অর্থের জোগান, কেউ ষড়যন্ত্র এবং কেউ সরাসরি কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন

মামলার এজহারে বলা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন ৬০ ফিট ভাঙাব্রিজ এলাকা থেকে সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর এলাকা থেকে আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুফল যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসম্পাদক এবং মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। আবু জাফর যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সক্রিয় কর্মী বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সুফলের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তথ্যও আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং মারামারিসহ বিভিন্ন ধারায় করা মামলা রয়েছে। একটি হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায়ও সুফল এজাহারনামীয় ও তদন্তে পাওয়া আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে তারা পলাতক হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মামলায় আরও ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad