টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বেশ কয়েকটি এলাকা। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে এসব এলাকায় বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। আরও বড় দুর্যোগের শঙ্কায় এরইমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, শনিবার ব্যাংককের প্রধান খালগুলোতে জমে থাকা বৃষ্টির পানির পরিমাণ ২০ সেন্টিমিটারের উপরে উঠেছে। এর ফলে শহরের অসংখ্য একতলা বাড়িঘর, গ্যারেজ ও যানবাহন ডুবে গেছে।
বিশেষ করে ব্যাংককের কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলের এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়েছে। সড়কগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং অনেক জায়গায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।
থাইল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলের ওপর শক্তিশালী নিম্নচাপ ব্যবস্থা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রোববার পর্যন্ত দেশের বেশির ভাগ এলাকায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশটির সরকার জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে ২১টি প্রদেশের ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দেশটির মধ্যাঞ্চলে। এরইমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মানুষের কাছে মোবাইলে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবারের বেশির ভাগ সময় ব্যাংককে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। শনিবারও সকালেও তা অব্যাহত থাকে।
বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং ক্রমাগত পানি বাড়তে থাকায় চালকেরা গাড়ি সরাতে না পেরে সেগুলো ফেলে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, ‘আরও একদিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে শহরের কর্মকর্তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজ করায় জলাবদ্ধতা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া বাসিন্দাদের জন্য কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু উঁচু সরকারি স্থাপনা গাড়ি রাখার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।


