ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চল ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে’ রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, সংকট সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে শেখ তামিম বলেন, কূটনৈতিক উপায়ে উপসাগরীয় সংকটের সমাধান সম্ভব। যুদ্ধ এড়াতে হরমুজ প্রণালি নৌ চলাচলের জন্য আবার খুলে দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, কাতার আঞ্চলিক সংঘাত কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানে সবকিছু করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দেশের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাতার অটল থাকবে।
কাতারের আমির বলেন, ইরান যুদ্ধ বহু বছর ধরে কূটনৈতিক সমাধান পিছিয়ে দেওয়ার ‘সম্মিলিত ফল’। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি আঞ্চলিক পর্যায়ে একটি ‘সম্মিলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ভাষণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের তিন ঘণ্টার বৈঠক ‘খুব ভালো’ হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
শেখ তামিম গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন। তার দাবি, ইসরায়েলের হামলা প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা কঠিন।
লেবানন, সুদান ও লিবিয়ার প্রতি কাতারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ইয়েমেনের ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে রাজনৈতিক সমাধানের জন্য জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতিও সমর্থন জানান।
এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজসহ বিভিন্ন নৌযানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সেপ্টেম্বরে ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সময়ে ইয়েমেনে হুথিদের নতুন করে অগ্রসর হওয়ার পর বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশেও সংঘাত তীব্র হয়েছে।


