অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার বিকালে এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
নাহিদ বলেন, সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার খেসারত দেশের ১৮ কোটি মানুষকে দিতে হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় কার্যকর বিকল্প না খুঁজে বিএনপি সরকার ক্ষমতার আসার পর মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তৃতীয় দফায় সরাসরি জনগণের ওপর জ্বালানি তেলের দামের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও বিপিসির লোকসানের সরকারি দাবির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকার সময় বিপিসির হাজারো কোটি টাকার মুনাফা কোথায় গেছে, তার জবাব দিতে হবে। বিপিসির মুনাফার টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা গেলে, সংকটে অন্য খাত কাটছাঁট করে কেন জ্বালানিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নাহিদ জানান, সরকার তেল আমদানিতে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কর ও শুল্ক আদায় করছে, যা সাময়িকভাবে কমিয়ে নাগরিকদের স্বস্তি দেওয়া যেত। একই সঙ্গে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলেও চলতি অর্থবছরে নতুন পে স্কেলে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার সমালোচনা করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যে পে স্কেল স্থগিত না রাখা এবং সরকারি প্রেস রিলিজে ভারতে তেল পাচার রোধকে দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে দেখানোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষায় ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপানো ঠিক নয়।
পরিকল্পিত ও জনবান্ধব সমাধান না খুঁজে জ্বালানির দাম বাড়ানোকে সরকারের ‘জনবিচ্ছিন্নতা ও দায়িত্বহীনতা’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং ব্যয় পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বিকল্প সমাধানের দাবি জানান তিনি।


