আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় আগুনে নিহত বেড়ে ৮

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় আগুনে নিহত বেড়ে ৮
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সাভারের শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়ায় তৈরি পোশাক কারখানায় আগুনের ঘটনায় নিহত বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪ এর উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে আগুনে তাৎক্ষণিকভাবে ভস্মীভূত পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত অপর দুইজনের মধ্যে সালমা আক্তার (৩০) নামের এক নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। অন্যজন সবজি বিক্রেতা বুলবুল ইসলাম(৪৫)। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক আরও ছয় জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং চারজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

আগুন লাগার খবর পেয়ে রাত ৮টায় ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট। আশুলিয়া এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান থাকায় খানাখন্দভরা সড়কে যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এতে কারখানায় আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন

প্রত্যক্ষদর্শী গার্মেন্ট কারখানার লাইনম্যান লিটন মিয়া জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে পাশের সড়কে থাকা এক রিকশাচালকসহ তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন হতাহত হন।

স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ বলেন, আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জন দগ্ধ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেমায়েত বলেন, কারখানার ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই। কারখানার সীমানাপ্রাচীরের এক কোণায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। সড়ক খানাখন্দভরা ও যানজট থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। পরে রাত সাড়ে তিনটা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আগুনের ঘটনায় আটজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে । ভেতরে প্রচণ্ড আগুন থাকায় এবং সড়কে যানজটের কারণে উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে পুরো এলাকায় প্রবেশ করতে পারছিলেন না। কারখানায় উচ্চ দাহ্য ক্ষমতাসম্পন্ন কাপড় ও ক্যামিকেল জাতীয় পদার্থ থাকায় কয়েক মুহূর্তে আগুন কারখানার অনেকাংশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে মধ্যরাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad