ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালের নতুন কোচ জর্জ জেসুসের প্রথম ২৫ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। দলটি আসন্ন চারটি নেশনস লিগ ম্যাচ খেলবে।
আগস্টে রোনালদো বলেছিলেন, আগামী বছরই সম্ভবত তার খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ বছর। এ নিয়ে অবসর পরিকল্পনা নিয়ে জল্পনা বাড়িয়েছিলেন তিনি।
৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগাল অধিনায়ক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড়। ২০০২ সালে স্পোর্টিংয়ের হয়ে সিনিয়র অভিষেকের পর তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং বর্তমান ক্লাব আল নাসরের হয়ে বড় বড় ট্রফি জিতেছেন।
পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী রোনালদো তার শিরোপার তালিকায় বিশ্বকাপ যুক্ত করতে পারেননি। শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে ছিটকে দিয়েছিল শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ফলে ফুটবলের সবচেয়ে বড় পুরস্কারটি তার ট্রফি ক্যাবিনেটে অনুপস্থিত থেকে যায়।
রোনালদো জুলাইয়ে নিশ্চিত করেছিলেন, ফিফা বিশ্বকাপের ২০২৬ আসরটিই এই প্রতিযোগিতায় তার শেষ হবে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চাননি।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জেসুস বলেন, ‘তার পারফরম্যান্সই মূল বিষয়। অতীতের কোনো হিসাব নেই। এই দলে ১৩ জন খেলোয়াড় আছে, যারা আমার সঙ্গে কাজ করেছে। আমার কোনো নির্দিষ্ট মূল গ্রুপ নেই, তাই এই দলের মধ্যে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ছিল, যারা এই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোনালদো অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের মতোই। যদি সে পারফর্ম করে, সে খেলবে; না করলে খেলবে না। তার আলাদা মর্যাদা আছে, তার পাঁচটি ব্যালন ডি’অর আছে, কিন্তু এটি কি আমার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে? না। তবে সে আলাদা, সেটি অবশ্যই ফ্যাক্টর।’
২৪ সেপ্টেম্বর ঘরের মাঠে ওয়েলসের বিপক্ষে পর্তুগাল কোচ হিসেবে অভিষেক হবে জেসুসের। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর নরওয়ে এবং ১ অক্টোবর ডেনমার্কের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। ৪ অক্টোবর তারা ঘরের মাঠে নরওয়েকে আতিথ্য দেবে।
জুলাইয়ে ৭২ বছর বয়সী এই সাবেক আল নাসর কোচকে নিয়োগ দেয় পর্তুগাল। এর কয়েক দিন আগে বিশ্বকাপ থেকে দেশটির বিদায়ের পর স্প্যানিয়ার্ড রোবের্তো মার্তিনেস পদত্যাগ করেছিলেন।
পর্তুগালের নেশনস লিগ দল
গোলরক্ষক: দিয়োগো কোস্তা (পোর্তো), রুই সিলভা (স্পোর্টিং), সামুয়েল সোয়ারেস (বেনফিকা)।
ডিফেন্ডার: গনসালো ইনাসিও (স্পোর্টিং), জোয়াও কানসেলো (বার্সেলোনা), দিয়োগো দালোত (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নুনো তাভারেস (লাজিও), নুনো মেন্ডেস (পারি সাঁ জার্মাঁ), রেনাতো ভেইগা (ভিয়ারিয়াল), রুবেন দিয়াস (ম্যানচেস্টার সিটি), তোমাস আরাউজো (বেনফিকা)।
মিডফিল্ডার: ব্রুনো ফার্নান্দেস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), জোয়াও পালহিনিয়া (বেনফিকা), জোয়াও নেভেস (পারি সাঁ জার্মাঁ), রুবেন নেভেস (আল হিলাল), ভিতিনিয়া (পারি সাঁ জার্মাঁ), বেরনার্দো সিলভা (রিয়াল মাদ্রিদ)।
ফরোয়ার্ড: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (আল নাসর), ফাবিও সিলভা (বরুসিয়া ডর্টমুন্ড), ফ্রান্সিস্কো ত্রিনকাও (আল আহলি), ফ্রান্সিস্কো কোনসেইসাও (জুভেন্টাস), গনসালো রামোস (এসি মিলান), জোয়াও ফেলিক্স (আল নাসর), পেদ্রো নেতো (চেলসি), রাফায়েল লিয়াও (গালাতাসারায়)।


